ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অতিষ্ঠ সিলেটের গ্রাহক
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ০৯:৫৫
সিলেটে বিদ্যুতের নিয়মিত লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহক। পাশাপাশি বিদ্যুতের লাইন মেরামত, সংরক্ষণ ও সংস্কারকাজ চলমান থাকায় বেড়েছে দুর্ভোগ। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় ঘোষণা দিয়ে ৫ থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সিলেটের চারটি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ প্রতি মাস বা সপ্তাহে বিদ্যুতের লাইন মেরামত ও সংরক্ষণ কাজ করাচ্ছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে অতিষ্ঠ গ্রাহক।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের কাজ চলায় সরবরাহ লাইন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ইচ্ছা করে বন্ধ রাখা হচ্ছে না। সংরক্ষণ ও মেরামত কাজ শেষে সংশ্নিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন সিলেট জেলায় প্রায় সাড়ে চার লাখ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকাতেই রয়েছেন তিন লাখের বেশি। শীত মৌসুম শুরুর পর প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা প্রতি এলাকায় লোডশেডিং করা হচ্ছে।
বর্তমানে নিয়মিত লোডশেডিংয়ের বাইরে সারাবছরই বিদ্যুতের লাইন মেরামত, সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজ করে আসছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিউবো সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের চারটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে বিভাগ-২-এর গ্রাহকরা।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গতকাল বুধবার ও আজ সিলেট মহানগরীর কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামস-ই-আরেফিন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুটি ১১ কেভি ফিডারের মেরামত ও সংরক্ষণ কাজ এবং রাইট অফওয়ে বরাবর গাছের শাখা-প্রশাখা কেটে ফেলার জন্য সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। একইভাবে এর আগের সপ্তাহেও, এমনকি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে পৃথক সময়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা হয়।
নগরীর পূর্বাঞ্চল এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই সংরক্ষণ ও মেরামত কাজের জাঁতাকলে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নগরীর মিরাপাড়ার বাসিন্দা উদ্যোক্তা এমরান আহমদ। তিনি বলেন, আমাদের এলাকা ঘন ঘন মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য ৫ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন রাখা হয়, যা আর কোনো এলাকায় হয় না।
একইভাবে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুর রহমান তাঁর আওতাধীন কয়েকটি এলাকায় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গত ২০ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখেন। এর আগে ১৪ জানুয়ারি সাড়ে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩-এর আওতাধীন এলাকায় ১১ কেভি বিসিক, পুলিশ লাইন ও কদমতলী ফিডারে গাছের শাখা-প্রশাখা কাটা এবং মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য ২১ জানুয়ারি, ২৮ জানুয়ারি ও ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। অনুরূপভাবে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪-এর আওতাধীন এলাকায় মাঝেমধ্যে মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিতরণ অঞ্চল, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাদির সমকালকে জানান, সিলেটে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ ৭০ থেকে ৭২ মেগাওয়াট। সব এলাকায় নিয়মিত কিছু সময় লোডশেডিং করা হয়। তা ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের কাজ চলছে।
- বিষয় :
- বিদ্যুৎহীন
- বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
- লোডশেডিং
- বিউবো
