ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

'বেআইনি' ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে চাষের মাছ জব্দ করলেন ইউএনও, ১২ জনের জেল

'বেআইনি' ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে চাষের মাছ জব্দ করলেন ইউএনও, ১২ জনের জেল
×

ছানাউল ইসলাম -ফাইল ছবি

 নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২০ | ১০:৩১

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছানাউল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি চাষের জলাশয় থেকে আহরণ করা প্রায় আড়াই লাখ টাকার মাছ জব্দ করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বিশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মাছ আহরণকারী জেলে, ম্যানেজারসহ ১২ জনকে আটক করে ছয়জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ১৫ দিনের জেল এবং অন্য ছয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সোমবার ওই জলাশয়ের মাছচাষি তোফাজ্জল হোসেন খান জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করেছেন।

ইএনওর জলাশয়ের কর্তৃত্ব নেওয়ার তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়াত ডা. রেবতী কান্ত সান্যালের ভাতিজা বীরেন্দ্রনাথ সান্যালের পক্ষে তোফাজ্জল হোসেন জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ চারজনকে বিবাদী করে ২০১৯ সালের ৪ জুলাই আদালতে মামলা করেছিলেন। আদালত ওই বছরের ১৮ জুলাই উভয়পক্ষের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। এরই একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে তোফাজ্জল হোসেন ওই জলাশয় থেকে মাছ আহরণ করেন। শুক্রবার সকালে বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় ইউএনও তার লোকজন এবং পুলিশ নিয়ে মাছগুলো জব্দ দেখিয়ে বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় ছয়জনকে জেল দেওয়া হয়।

তোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রয়াত ডা. রেবতী কান্ত সান্যাল ও তার ভাতিজা বীরেন্দ্রনাথ সান্যালের কাছ থেকে ক্রয়, লিজ এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মূলে ৮ একর ৫৯ শতক ওই জলাশয়ের আইনগত মালিক আমি। অথচ ইউএনও ওই জমি সরকারি কাজে ব্যবহার করার নামে আমাকে হয়রানি করে আসছেন। এমনকি বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আদালত অবমাননা, মাছ লুট ও অন্যায়ভাবে জেল দেওয়ার অভিযোগে ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজমুল আলম দেওয়ান বলেন, মাছ চাষসহ জলাশয়ের ভোগদখল চলাকালে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নালিশি সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। এ অবস্থায় ইউএনও আদালতের আদেশ অমান্য করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, মাছ জব্দ, জেলেদের আটকসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে নিজেই রায় দিয়েছেন। তার এ কাজ এখতিয়ারবহির্ভূত।

এ ব্যাপারে ইউএনও ছানাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জলাশয়ের ওপর স্থিতাবস্থা থাকায় এবং রাতের আঁধারে মাছ আহরণের কারণে মাছ জব্দসহ আটক ব্যক্তিদের জেল দেওয়া হয়েছে, যা আইনসম্মতভাবেই করা হয়েছে। আদালতের আদেশ অমান্য করা হয়নি।

আরও পড়ুন

×