ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

বোনের দেবর এসআই, সেই ক্ষমতায় তারাও ‘পুলিশ’

বোনের দেবর এসআই, সেই ক্ষমতায় তারাও ‘পুলিশ’
×

বায়ে থেকে আটক লাভলু, জব্দকৃত মোটরসাইকেল ও আটক মো. মোশাররফ -সমকাল

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২০ | ০৬:৩৪

পুলিশের উপ-পরিদর্শক পদে কর্মরত রয়েছেন মো. ইকবাল আহমেদ। কর্মস্থলে নিজের ভাইয়ের এক শ্যালকের সঙ্গে তার বেশ সখ্যতা তার। বেয়াইয়ের মোটরসাইকেলে চেপে ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন জায়গায়। এতে বেয়াইও নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিতে শুরু করে দেন। নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক ট্রাকচালককে আটকিয়ে মারধর করার সময় জনতার হাতে ধরা পড়েন এসআইয়ের বেয়াইসহ দু’জন। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। পুলিশ পরিচয় দেওয়া দুই যুবককে মঙ্গলবার রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি ঈশ্বরগঞ্জ থানায় উপ-পরিদর্শক পদে যোগদান করেন ইকবাল আহমেদ। চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়ার আগে প্রবেশনাল পিরিয়ডও কাটিয়েছেন এ থানায়। উপজেলার খৈরাটী জজ বাড়ি মজিদুল হক লাভলু নিজের ফুফাতো বোনকে বিয়ে দিয়েছেন ইকবালের বড় ভাইয়ের কাছে। সেই সূত্রে লাভলুর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে এসআই ইকবালের। ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ইকবাল যোগদানের পর থেকে বেয়াই লাভলুর মোটরসাইকেলে চেপে ঘুরাঘুরি করেন এলাকায়। বেয়াইয়ের মোটরসাইকেলটি তিনি কিনে নিবেন এমন কথাবার্তাও চলছিল। এর মধ্যেই লাভলু নিজের মোটরসাইকেলে পুলিশ লেখা স্টিকার লাগিয়ে দেন।

সোমবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এলাকা থেকে একটি পিকআপ ভ্যানকে ধাওয়া করে পুলিশ স্টিকার লাগানো মোটরসাইকেলটি। মাইজবাগ ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কে আটকানো হয় পিকআপ ভ্যানটিকে। নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে পিকআপ ভ্যান এক্সিডেন্ট করেছে এমন তথ্য দিয়ে বটতলা বাজারে সেটিকে আটকানো হয়। ওই সময় চালক গাড়ি থেকে নামতে না চাওয়ায় মারধর শুরু করলে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ জানায়। তখন চিৎকার করে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে লোকজনকে সরে যেতে বলেন লাভলু। কিন্তু লোকজন চালককে মারধরের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে হাজির হন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখের হোসেন সিদ্দিকী। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতেও নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিতে শুরু করেন দুই যুবক। ওই অবস্থায় তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পিকআপচালক মো. মিরাজ মিয়া জানান, সোমবার ব্রা‏হ্মনবাড়িয়া থেকে মাছ এনে গৌরীপুরের গাজীপুর মাছের আড়তে বিক্রি করেন। বিক্রয়লব্ধ মাছের দেড় লাখ টাকা নিয়ে ফিরছিলেন তিনি। ঈশ্বরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা মোড়ে ৭০ টাকা টোল আদায়ের পর দুই যুবক চালকের কাছে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু পুলিশের পোশাক না থাকায় চালক সিগনাল না মেনে চলে যান। পরে তারা বটতলা এলাকায় পিকআপের গতিরোধ করে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে তিনি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। পরে রাতেই দ্রুত বিচার আইনে পুলিশ পরিচয় দেওয়া দুই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত হয়।

পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর মজিদুল হক লাভলু নিজের নাম আবদুল মজিদ বলে জানায়। নিজের বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধা (প্রয়াত) আজিজুর রহমান বাচ্চুর পরিবর্তে মৃত আবদুল খালেক বলে জানায়। নিজের গ্রামের নামও জানায় চরহোসেনপুর। মামলায় অন্য অভিযুক্ত হল খৈরাটি গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মো. মোশাররফ (১৫)। পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠিয়েছে।

মজিদুল হক লাভলু জানায়, এসআই ইকবাল তার ফুফাতো বোনের দেবর। পিকআপ ভ্যানটি এক্সিডেন্ট করেছে বলে কয়েকজন চিৎকার করে গাড়িটি আটকাতে বলায় তিনি গাড়িটি আটকান। ওই সময় নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই মো. ইকবাল আহমেদ জানান, লাভলু তার বড় ভাইয়ের শ্যালক। তবে আর বেশি কিছু কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) মো. সাখের হোসেন সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ পরিচয় দিয়ে মাছ বিক্রি করে যাওয়া পিকআপ ভ্যানটিকে আটকে চালককে মারধর করা হয়। অভিযুক্ত লাভলুর সঙ্গে এসআই ইকবালের কী সম্পর্ক, কেন কথা হতো এগুলো দেখে তার (এসআই ইকবাল) বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×