ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

আলোচনা নিয়ে বিপরীত তথ্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের

আলোচনা নিয়ে বিপরীত তথ্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের
×

ছবি- সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০২:৪৯

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুধু সংঘাত বা হামলা নয়, বরং আলোচনা নিয়েও বিপরীত তথ্য দিচ্ছে। কাতারের দোহায় আলোচনা নিয়ে সাংঘর্ষিক তথ্য এসেছে দুই দেশের কাছ থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসার অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, জব্দ থাকা তহবিল ছাড়াতেই কাতারে বসছে তারা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

ইরান আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দোহায় কোনো উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে না তাদের। একটি কারিগরি দল সেখানে যাবে। তবে তারা কোনো রাজনৈতিক আলাপ করবে না। বরং সমঝোতা স্মারক কীভাবে বাস্তবায়িত করা যায়, তা নিয়ে আলাপ হবে। 

সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইরানের বেশ কিছু আপত্তি ও উদ্বেগ রয়েছে। তারা এটির বাস্তবায়নে ধীরগতি নিয়েও বেশ হতাশ। বিশেষ করে সমঝোতা স্মারকের প্রথম দফা ও পঞ্চম দফা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে তাদের মধ্যে। প্রথম দফায় বলা হয়েছে, লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ অবসানের কথা। সেটি শতভাগ বাস্তবায়িত হয়নি। উল্টো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্প্রতি একে অন্যকে লক্ষ্য করে আবার হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে পঞ্চম দফায় রয়েছে হরমুজ প্রণালির বিষয়টি। ইরান এটিকে ব্যাখ্যা করছে, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যে ৬০ দিনের সময়সীমা রয়েছে, সে সময়ে হরমুজে তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং তারা জাহাজ যাতায়াত করতে দেবে। অপর পাশে যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ব্যাখ্যা করছে, ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে সরে দাঁড়াবে এবং নৌযান সাধারণভাবে চলাচল করবে। হরমুজ প্রণালিতে ওমানের পাশ দিয়ে নতুন জলপথ খোলার বিষয়টি নিয়েও আপত্তি রয়েছে ইরানের।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় পৌঁছেছেন। তবে তারা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসবেন না। মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যানুসারে, কুশনার ও উইটকফ আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। 

ইরান জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি দল ছয়শ কোটি ডলার মূল্যের ইরানি তহবিল ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা করবে। মার্কিনিদের পূর্ব ঘোষণা অনুসারে, প্রথম ধাপে ওই অর্থ পাওয়ার কথা তাদের। তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, জব্দকৃত ওই ছয়শ কোটি ডলার তহবিল তেহরানকে এখনও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

হরমুজ দিয়ে জাহাজ পার

গত সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৪০টি জাহাজ পার হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ওই জলপথ দিয়ে দৈনিক প্রায় একশরও বেশি জাহাজ পার হতো। বর্তমান পরিস্থিতিতে নৌযানের চলাচল অনেকটাই কম। এটি বাড়তে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিয়াবাদি জানান, ইরান ও ওমানের হরমুজ প্রণালি বিষয়ক কমিটি প্রথম বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। দুই পক্ষ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে সমঝোতায় আসতে সক্ষম হয়েছে। 

আলজাজিরার খবর বলছে, আগামীতে ওমানের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করতে চায় ইরান। ওয়াশিংটন এটির বিপক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্ররাও চায়, হরমুজ দিয়ে টোলমুক্তভাবে জাহাজ পার হবে।

মাইন অপসারণের দায়িত্ব ইরানের

এদিকে, হরমুজ প্রণালি থেকে এখনও মাইন অপসারণ করা হয়নি। ওমান ও অন্যদের সঙ্গে মিলে মাইন অপসারণে কাজ করবে বলে জানিয়েছিল ফ্রান্স। তবে তেহরান আবারও এর বিরোধিতা করেছে। 
দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিয়াবাদি, ফ্রান্সকে বিষয়টি জটিল না করে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, এই কাজ ইরান একাই করবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারক অনুসারে এটি তাদেরই করার কথা। পরিস্থিতি আর নাজুক না করার অনুরোধ জানান তিনি।

মূলত গত সোমবার ওমানের সুলতানের সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। পরে তিনি জানান, তারা প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে রাজি হয়েছেন। এর আগেও পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই ধরনের বক্তব্য সামনে এসেছিল। ইরান সে সময়ও জানিয়েছিল, এটি তাদের একার দায়িত্ব।

আরও পড়ুন

×