ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

কাতার ট্র্যাজেডি

দেশে ফিরল ৫ প্রবাসীর মরদেহ, কানাইঘাটজুড়ে শোক

দেশে ফিরল ৫ প্রবাসীর মরদেহ, কানাইঘাটজুড়ে শোক
×

ছবি- সংগৃহীত

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৪:০১

কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে মারা যান সিলেটের কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসী। নয় দিনের মধ্যে তাদের মরদেহ দেশে ফিরেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিমানের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে সকাল ৭টায় পাঁচজনের মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। স্থানীয় এমপি মুফতি আবুল হাসানসহ স্বজনরা পৃথক কফিনবাহী মরদেহ গ্রহণ করেন।

অ্যাম্বুলেন্সযোগে কফিনবাহী লাশ সকাল ১১টার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় কানাইঘাটের নিজ নিজ বাড়িতে। বাদ জোহর স্থানীয় আকুনি মাদ্রাসা মাঠে একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর জানাজার নামাজ পড়ান মুফতি আবুল হাসান এমপি। পরিবার-পরিজনসহ এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে জানাজার নামাজ শেষে চারজনকে গ্রামের একই কবরস্থানে ও আরেক জনকে নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।     

নিহত প্রবাসীরা হলেন কানাইঘাটের দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ির বাহার উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদির, ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মুস্তাক আহমদ আফনান, একই গ্রামের মরা মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ, আগতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন ও আমরপুর গ্রামের আব্দুন নুরের ছেলে জিবাল আহমদ।

গত ২১ জুন সকালে কাতারের দোহা থেকে কাজে যাওয়ার পথে শাহানিয়া এলাকায় পাঁচ বাংলাদেশিকে বহনকারী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়ক থেকে দুমড়েমুচড়ে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ভারতীয় নাগরিক গাড়ির চালক ও সিলেটের কানাইঘাটের পাঁচজন নিহত হন। 

নিহতদের পরিবার জানিয়েছে, পাঁচজনের অনেকে দেশে ছুটি কাটিয়ে আবার কাতারে গিয়েছেন। একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে পুরো কানাইঘাট উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিমানবন্দর থেকে কফিনবন্দি লাশ বাড়িতে নেওয়ার পর স্বজনহারাদের কান্না থামছিল না। কারও স্ত্রী, কারও পিতামাতা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।     

নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থা জিবাল আহমদের পরিবারের। বড় ভাই মারা গেছেন এক বছর আগে। তাঁর পরিবারের ভরণপোষণও করতেন জিবাল। জিবালের পরিবারে মা, স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের মুখে দুমুঠো অন্নের জোগানে এখন শুধু অনিশ্চয়তা। বিমানবন্দরে তাঁর দুই সন্তান কফিন ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কাতারের একটি মাজরায় কাজ করতেন আব্দুল কাদির। চার বছর পর আগামী জুলাই মাসেই প্রথমবার ফেরার কথা ছিল তাঁর। নিহত আব্দুল কাদিরের লাশ বাড়িতে পৌঁছার পর পিতা বাহার উদ্দিন বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বাড়ি রেখে দুই মাস আগে ছুটি কাটিয়ে কাতার যান জুবের আহমদ। তাঁর পিতাও ১২ বছর আগে সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যান। 

ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সমকালকে বলেন, ‘নিহতের সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বেশি অবস্থা খারাপ জিবাল ও জুবেরের পরিবারের।’ তিনি অসহায় পরিবারগুলোকে পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস দোহা কাতারের শ্রম উইংয়ের কাউন্সিলর মাশহুদুল কবির জানিয়েছেন, ‘মরদেহগুলো বাংলাদেশ ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে প্রেরণ করা হয়েছে।’ সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের স্বজনদের হাতে ৩৫ হাজার টাকা করে চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×