ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

বনভূমি উদ্ধার অভিযানে হামলা, আহত ১৬

বনভূমি উদ্ধার অভিযানে হামলা, আহত ১৬
×

ছবি- সমকাল

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৩:২৭

গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি বনভূমি উদ্ধার করতে গিয়ে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কমর্কর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে আশপাশের মানুষকে উত্তেজিত করে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্তের দাবি, তাঁর কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।  

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডোমবাড়িচালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমানের ডান পা ভেঙে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বন বিভাগের ১৬ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আরজিনা তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাতখামাইর বিটের অধীনে সংরক্ষিত বনভূমির একটি অংশ দখল করে, সেখানে ছয় কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ করছিলেন মো. দুলাল মিয়া নামের এক ব্যক্তি। বর্তমানে তিনি শ্রীপুর উপজেলার আবদার গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। দুলাল মিয়া মূলত নেত্রকোনা সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

সূত্র আরও জানায়, খবর পেয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমানের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যায়। অভিযান শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই দখলকারীরা বাধা দেয়। 
বন বিভাগের সদস্যদের অভিযোগ, একপর্যায়ে কয়েকজন নারীকে সামনে এনে ‘নারীর গায়ে হাত দিয়েছে’ বলে চিৎকার করা হয়। ওই চিৎকারে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এরপর মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাদের উত্তেজিত করা হয়। মুহূর্তেই জনতার একটি অংশ তাদের ওপর হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা বন বিভাগের সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রাণ বাঁচাতে বনকর্মীরা আশপাশের বাড়ি ও ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা বন বিভাগের একটি জিপ ভাঙচুর করে।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান সমকালকে জানান, দুলাল মিয়া যেখানে বাড়ি নির্মাণ করছিল, সেখানে অল্প কিছুদিন আগেও বড় বড় গজারি গাছ ছিল। সেগুলো কেটে শিকড় তুলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। তারা আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। 

অভিযুক্ত দুলাল মিয়া বলেন, ‘বন বিভাগের লোকজনকে ম্যানেজ করেই আমি সেখানে বাড়ির কাজ শুরু করি। পরে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় উচ্ছেদে আসে। আমরা গরিব মানুষ এত টাকা দেব কোথা থেকে।’  

শ্রীপুর থানার ওসি মো. শাহীনূর আলম বলেন, ‘বন বিভাগের লোকজন পুলিশকে অবহিত না করেই অভিযানে গিয়েছিল। খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বন বিভাগ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।’ 

আরও পড়ুন

×