ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প
সরকারের ওপর ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের
ফাইল ছবি- বিবিসি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৪:২৪
চিৎকার করে সবাইকে চুপ হতে বললেন ভেনেজুয়েলার উদ্ধারকর্মীরা। এরপর কান পাতলেন সদ্য ড্রিল করা এক গর্তে। ওপাশ থেকে কোনো আওয়াজ আসে কিনা তা শোনার চেষ্টা চালালেন। ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল লা গুয়াইরার একটি দৃশ্য এটি।
এখন পর্যন্ত দেশটিতে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার সাতশ’তে। এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই ভূমিকম্পকে দেশের ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ আখ্যা দিয়েছেন।
সেখানে যে হারে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে তুলনায় উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা কম। রয়েছে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতাও। গোটা উদ্ধারকাজই চলছে ধীরগতিতে। এদিকে স্বজন হারিয়ে মানুষের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। তারা দুষতে শুরু করেছে সরকারকে। অনেকের মতে, সরকার তাদের একা ছেড়ে দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরার বাসিন্দা মিগুয়েল অস্কার নুনেজ ক্ষুব্ধ স্বরে বলেন, ‘আমার সন্তান আরও শত শত ব্যক্তির মতো ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে রয়েছে। তাদের উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রয়োজন। হতেও পারে যে এই ভূমিকম্পে সে মারা যায়নি। সে যদি কর্তৃপক্ষের অবহেলার জন্য মারা যায়, সেটি কী কল্পনা করা যায়!’
একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কেভিন মন্টিলাও। তাঁর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে আটকা পড়েছে ধ্বংসস্তূপে। তিনি বলেন, ‘উদ্ধারকাজ অনেক পরে শুরু হয়েছে এবং ধীরগতিতে চলছে। পুলিশ শুধু এলাকায় দেখতে এসেছিল। কিন্তু তারা কোনো সহায়তা করেনি। সরকারের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত হতাশাজনক ও অকার্যকর।’
বিবিসির খবর বলছে, লা গুয়াইরায় অনেক এলাকা রয়েছে, যেগুলোতে কোনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়নি। এ রকমই এক এলাকার বাসিন্দা ডেলিসবেথকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কারও কাছ থেকে সহায়তা পাইনি। কোনো যন্ত্র বা উদ্ধারকারী আসেনি, ধ্বংসস্তূপ খুঁড়তে আমাদের সহায়তা করতে। বিষয়টা অনেকটা এমন যে আপনাকে আপনার স্বজন খুঁজে পেতে একা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ তাঁর দুই মেয়ে নিখোঁজ ধ্বংসস্তূপে। তিনি জানেন না, তারা বেঁচে আছে না কি মারা গেছে।
৬০ বছর বয়সী হুয়ান আভেন্ডো জানান, তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে চিৎকার শুনতে পাচ্ছেন। কোনো কিছু না থাকায় খালি হাতেই চেষ্টা করছেন মানুষকে উদ্ধারের। তাঁর হিসাব অনুসারে, শত শত ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকতে পারেন। এমনও হতে পারে যে তাদের হয়তো আর কখনই পাওয়া যাবে না।
- বিষয় :
- ভেনিজুয়েলা
- ভূমিকম্প
