জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
মন্দিরের পুরোহিতকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ
ছবি- সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৫:২৩
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের পুরোহিত সুভাষ দেউরীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার রাতে রাজধানীর স্বামীবাগ এলাকা থেকে তিনি অপহৃত হন বলে জানান। পরে কোথাও তাঁকে আটকে রেখে মারধর করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। শেষে গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিনি ওই ভবন থেকে পালানোর জন্য লাফ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দুর্জয় সাহা সমকালকে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে কাজ করেন সুভাষ। তিনি সেন্ট্রাল ল কলেজে পড়েন। আমরা নারিন্দা রোডের একটি মেসে একসঙ্গে থাকি। সোমবার রাতে সুভাষ বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপহৃত হন। তাঁকে কোথায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় তা ঠিকভাবে বলতে পারেননি। সারারাত তাঁর খোঁজ মেলেনি। পরে গতকাল সকালে বাসার সামনে তাঁকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। তখনই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর পা ভেঙে গেছে, কোমরে আঘাত লেগেছে। বুকে-মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি শঙ্কামুক্ত নন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুভাষ সাংবাদিকদের জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে রিকশায় স্বামীবাগে যান। এরপর কী ঘটেছে, তা স্পষ্ট মনে নেই। মাইগ্রেনের সমস্যার কারণে অনেক কিছু তাঁর মনে থাকে না। রাতে জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন, একটি মেসের ভেতরে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে ৭ থেকে ৮ জন যুবক ছিল, তাদের কেউ কেউ মাদক সেবন করছিল। তারা সুভাষকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ কেড়ে নেয়। পরে মোবাইল ফোনে থাকা মেসেজ দেখে তারা জানতে পারে, তাঁর ব্যাংক হিসাবে লক্ষাধিক টাকা রয়েছে। সেখান থেকে ৩০ হাজার টাকা তুলে দিতে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকের অ্যাপ বা চেকবই না থাকায় তারা টাকা তুলতে পারেনি। পরে রুমমেটকে ফোন করিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা এবং বোনকে ফোন করিয়ে আরও ২০ হাজার টাকা আনিয়ে নেয় তারা। একপর্যায়ে তিনি পালানোর চিন্তা করেন। কৌশলে তিনি ভবনের ছাদে যান। তবে সেখান থেকে তিনি লাফ দিয়েছেন নাকি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা হয়েছে তা স্মরণ করতে পারেননি। পরে তিনি রিকশায় নারিন্দায় বাসার সামনে পৌঁছে পড়ে যান।
ওয়ারী থানার ওসি মফিজুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর বক্তব্য থেকে ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাচ্ছে না। তবে তাঁর দাবি অনুযায়ী, সোমবার রাতে তিনি স্বামীবাগের একটি মন্দিরে যান। সেখান থেকে কয়েকজন তাঁকে একটি বাসায় নিয়ে যায়। সকালে তিনি ওই বাসা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে আসেন। লাফিয়ে পড়ার কারণে তিনি আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
