ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

শিক্ষক বিদায় অনুষ্ঠানে

সাবেক এমপিকে প্রধান অতিথি করায় ভাঙচুর প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিল

সাবেক এমপিকে প্রধান অতিথি করায় ভাঙচুর প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিল
×

ছবি- সংগৃহীত

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৪:১৪

পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করাকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির দুপক্ষ একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের অবসর উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান শেখ, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর দুলাল সরদারকে বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্যানারে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠান শুরুর আগে স্থানীয় বিএনপির অন্য একটি পক্ষ বিদ্যালয়ে এসে অতিথি নির্বাচনের বিষয়ে আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিরোধিতা করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে অতিথি করা হয়েছে। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং রান্না করা দুই ডেকচি খাবার নষ্ট করা হয়।

বিদ্যালয়ের বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম ও স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা যারা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করেছি, মামলা-হামলা ও কারাভোগ করেছি, তাদের উপেক্ষা করে যারা গত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন, তাদের অতিথি করায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।’

সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিতর্কিত নেতাদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। স্থানীয় জনগণ সেটি মেনে নেয়নি।’

সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, ‘আমি অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর আগেই মঞ্চ ও প্যান্ডেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারীরা দায়ী।’

অন্যদিকে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তাই কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে সাবেক এমপি সিরাজ সরদার গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জামায়াতের প্রার্থীকে সমর্থন করেছিলেন– এটি সত্য।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রস্তাবিত সভাপতি মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘আলোচনা করেই সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা আমাদের ধারণায় ছিল না।’

ঈশ্বরদী থানার ওসি জানান, ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ঈশ্বরদীতে দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে হাবিবুর রহমান হাবিব ও সিরাজুল ইসলাম সরদারের অনুসারীদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সেই বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়।

আরও পড়ুন

×