ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

দোহারে মা-মেয়ের মৃত্যু, ছিলেন ‘এনজিওর ঋণের চাপে’

দোহারে মা-মেয়ের মৃত্যু, ছিলেন ‘এনজিওর ঋণের চাপে’
×

ছবি- সমকাল

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০১:৪১ | আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০১:৪৬

ঢাকার দোহারে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে মারা গেছেন মা ও মেয়ে। তাঁরা হলেন খালপাড় এলাকার লাভলী আক্তার (৪০) ও তাঁর মা রেহানা বেগম (৫৭)। স্বজনদের অভিযোগ, ঋণ আদায়ে এনজিও কর্মকর্তাদের চাপ, ভয়ভীতি ও গালাগালির জেরে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দোহার খালপাড় এলাকার মৃত শেখ শহীদের স্ত্রী লাভলী এক বছর আগে ‘রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন’ নামের একটি এনজিওর বটিয়া শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। কয়েক মাস ধরে ছেলে নিয়মিত টাকা পাঠাতে না পারায় কিস্তির টাকা শোধ করতে পারছিলেন না লাভলী। এনজিও কর্মকর্তারা তাঁকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মায়ের বাড়িতে যান। লাভলী তাঁর মায়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন, এমন তথ্য পেয়ে এনজিওর এক কর্মকর্তা গত ২৪ জুন সেখানে পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। ওই দিনই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেওয়া হলে লাভলীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

লাভলীর মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই তাঁর ঋণের টাকার জন্য মা রেহানা বেগমের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেন এনজিওর লোকজন। গত সোমবার সন্ধ্যার আগে এনজিওর লোকজন নাগেরকান্দায় গিয়ে টাকা পরিশোধ না করলে আবারও পুলিশের ভয় দেখান। এতে মা রেহানা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রেহানাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। 

রেহানা বেগমের ছেলে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মা ঋণের বিষয়ে জানতেন না। তারপরও এনজিওর লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে। পুলিশের ভয় দেখায়। এনজিওর কর্মকর্তাদের চাপ সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে আমার মা ও বোন মারা গেছে। আমি আমার মা ও বোনের মৃত্যুর বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশনের শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার জাহিদ বলেছেন, ‘ঋণগ্রহীতা লাভলী ছয় মাস আগে ঋণখেলাপি হয়েছেন। আমরা টাকা আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। লাভলী মারা যাওয়ার পর আমরা তাঁর ঋণ মওকুফের জন্য ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে তাঁর মায়ের বাড়িতে যাই। টাকার জন্য কোনো চাপ দেওয়া হয়নি।’

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুবকর সিদ্দিক বললেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম বলেছেন, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিতভাবে জানালে ওই এনজিওর বিষয়ে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×