ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

প্রেমঘটিত বিবাদে মনিরামপুরে বন্ধুর হাতে কলেজছাত্র খুন

প্রেমঘটিত বিবাদে মনিরামপুরে বন্ধুর হাতে কলেজছাত্র খুন
×

কলেজছাত্র ইকলাস হোসেন নয়ন

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২০ | ১১:১৪ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২০ | ১১:২৭

যশোরের মনিরামপুরে প্রেমঘটিত বিবাদে বন্ধুর হাতে ইকলাস হোসেন নয়ন নামের এক কলেজছাত্র খুন হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর পলাশী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের মসজিদের সামনে ফেলে পালিয়ে যায় বন্ধু মৃদুল। সেখান থেকে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

ঘটনার পর সহকারী পুলিশ সুপার (মনিরামপুর সার্কেল) সোয়েব আহমেদ খান, ওসি (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিহত নয়ন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামের আবু হানিফের ছেলে। সে সদর উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামে নানাবাড়ি থেকে লেখাপড়া করত। আর ঘাতক মৃদুল মনিরামপুরের এড়েন্দা গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় নয়নের নানা আয়হার আলী মৃদুলকে প্রধান করে অজ্ঞাত আরও তিনজনের নামে হত্যা মামলা করেছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

খেদাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সালাহ উদ্দিন জানান, ইকলাস হোসেন নয়ন ছোট থেকে রুদ্রপুর গ্রামে নানাবাড়ি থেকে লেখাপড়া করে আসছিল। সে রুদ্রপুর কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। অন্যদিকে, নয়নের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মৃদুল পলাশী কলেজে পড়ত। মৃদুলের সঙ্গে কলেজের এক শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে মৃদুলের সঙ্গে ওই মেয়ের সম্পর্কের অবনতি হলে সে নয়নের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

নয়নের নানা আয়হার আলী জানান, অন্যদিনের মতো মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে পার্শ্ববর্তী বাসুদেবপুর গ্রামের শিক্ষক ইব্রাহিমের বাড়িতে পড়তে যায় নয়ন। সকাল ৭টার দিকে পলাশী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মসজিদের সামনে নয়নের লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী তাকে খবর দেয়।

ওসি মতিয়ার শিকদার জানান, পলাশী স্কুলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রাস্তা থেকে নয়নকে তার বন্ধু মৃদুল টানতে টানতে স্কুলের প্রাচীরের ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে মৃদুলকে বেধড়ক মারধর করে সে। একপর্যায়ে নয়নের মাথা ধরে দেয়ালে ক্রমাগত আঘাত করে। এ সময় নয়ন অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ প্রাচীরের বাইরে মসজিদের সামনে ফেলে চলে যায়।

আরও পড়ুন

×