কুড়িগ্রামে ডিসি সুলতানার দেওয়া নিয়োগ বাতিল দাবিতে মানববন্ধন
কুড়িগ্রামে ডিসি সুলতানার দেওয়া নিয়োগ বাতিল দাবিতে বুধবার মানববন্ধন করে ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনাকারীরা- সমকাল
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ০৮:৫৬
কুড়িগ্রামে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীনের কর্মকালীন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে দু'দফায় দেওয়া ৭৩ জনের নিয়োগ বাতিল দাবিতে বুধবার মানববন্ধন করেছেন জেলার ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনাকারীরা।
এদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার পরিচালক ফোরামের আয়োজনে প্রেসক্লাবের সামনে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়কারী মাহতাব আলী, জেলা ফোরাম সভাপতি সাইদুর রহমান, সেক্রেটারি নবীউল ইসলাম ও সদস্য হাছিনা খাতুন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১০ সাল থেকে বিনা বেতনে সামান্য পারিশ্রমিক নিয়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনা করে আসছেন তারা।
এ অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে জনবল নিয়োগের জন্য ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে পরিপত্র জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তারা আশা করেছিলেন, নিয়োগে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কিন্তু সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন গত বছরের অক্টোবরে ২৩ জন ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেন। এ নিয়োগের বিরুদ্ধে রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের সেকেন্দারপাড়া গ্রামের রহিমুল্লা মিয়ার ছেলে আব্দুল আউয়াল মিয়াসহ ২৬ জন রিট করলে উচ্চ আদালত ছয় মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আদেশের কপি পাওয়া যায়। এর পরও জেলা প্রশাসক চলতি মার্চ মাসে আরও ৫০ জন হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দিয়েছেন। এভাবে দু'দফায় ৭৩ জনকে দেওয়া নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান তারা।
এদিকে ব্যাক ডেটে দায়িত্ব দিয়ে বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম ছেড়েছেন ডিসি সুলতানা পারভীন। তিনি ১৬ মার্চ তারিখ দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাফিজুর রহমানের কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেছেন।
গত শুক্রবার মধ্যরাতে কৃষ্ণপুর চড়ূয়াপাড়া এলাকার বাড়িতে গিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে মাদক মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার দণ্ড দিয়ে মধ্যরাতে কারাগারে পাঠান ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিসি সুলতানা পারভীনকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছিল। সুলতানা পারভীন ২০১৮ সালের ৩ মার্চ জেলা প্রশাসক হিসেবে কুড়িগ্রামে যোগদান করেছিলেন।
