লক্ষ্মীপুরে গণজমায়েত ঘটিয়ে করোনামুক্তির মোনাজাত
গণজমায়েত ঘটিয়ে মোনাজাতের আয়োজন- সমকাল
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ০৯:১০ | আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২০ | ০৯:১৪
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস রোধে সরকারের পক্ষ থেকে জনসমাগম এড়িয়ে চলার আহ্বান থাকার পরও লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এই ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য বিপুল গণজমায়েত ঘটিয়ে এক মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বুধবার ফজরের নামাজের পর রায়পুর হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া রচিমউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে হায়দরগঞ্জ সাইয়্যেদ মঞ্জিলের আয়োজনে এই 'খতমে শেফা' অনুষ্ঠিত হয়।
মোনাজাতের আগে দোয়া বয়ান করেন চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খতিব আওলাদে রাসূল (সা:) হযরত মাওলানা ছাইয়্যেদ মো. আনোয়ার হোসাইন আল-মাদানী।
স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনয়িন থেকে ফজর নামাজের আগেই লোকজন সমবেত হতে শুরু করেন। সূর্যোদয়ের পর মোনাজাতের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
এ সময় খতমে শেফায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- হযরত মাওলানা মুফতি সাইয়্যেদ মো. তাহের ইজ্জুদ্দীন জাবেরী আল-মাদানী, ঈদগাহ ময়দানের খতিব হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ মো. জাহেদ ইজ্জুদ্দীন জাবেরী আল-মাদানী, পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্যের স্থানীয় প্রতিনিধি কাজী জামসেদ কবির বাক্কী বিল্লাহ, হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া আর.এম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হযরত মাওলানা আব্দুল আজিজ মজুমদার, হায়দরগঞ্জ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ.কে.এম ফজলুল হক প্রমুখ।
স্থানীয় পুলশি ফাঁড়ির ইর্নচাজ ইন্সপেক্টর বেলায়তে হোসনে বলেন, 'আমরা আগে থেকে এ জমায়েত সর্ম্পকে কিছুই জানতাম না।' একই বক্তব্য দেন রায়পুর থানার ওসি তোতা মিয়া। তিনি বলেন, আমরা আগে থেকে কিছুই জানতে পারিনি।
জেলা সিভিল সার্জন আব্দুল গফফার জানান, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের থেকে দূরত্বে থাকতে হচ্ছে। তার পরও কিভাবে তারা প্রশাসের অনুমতি না নিয়ে জমায়েত করেছে তা জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে রাতে বৈঠক রয়েছে।
এদিকে জেলায় বুধবার পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২১৪ জন হয়েছে।
পুলিশ সুপার এএইচ কামরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। আর এটা কোনও মাহফিলও ছিল না। এটা করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য ফজররে নামাজরে পর মোনাজাতের পর করেছে তারা।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরীন চৌধুরী জানান, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে এতো বড় সবাবেতে লোক জড়ো করে মাহফিল হলো; বিষয়টি পরে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জানতে পারেন। এরপর তাদের ডাকা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। যা হয়েছে তার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সভা সমাবশে ও মাহফিলের অনুমতি চাননি তারা। রায়পুর উপজলো নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যারা এটার আয়োজন করেছে তাদেরকে ডেকে কারণ দর্শানো ব্যবস্থা নেওয়ার।
- বিষয় :
- লক্ষ্মীপুর
