ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

গুজবে থানকুনি পাতা খাওয়ার হিড়িক

গুজবে থানকুনি পাতা খাওয়ার হিড়িক
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ১০:৩০ | আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২০ | ১০:৩৬

পীর স্বপ্নে দেখেছেন তিনটি থানকুনি পাতা খেলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে- বিভিন্ন স্থানে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে ওইসব এলাকায় থানকুনির পাতা খাওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গোপালগঞ্জ: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাশিয়ানীতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, থানকুনি পাতা খেলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা যাবে। এরপর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষজন মধ্যরাতে লাইট জ্বালিয়ে থানকুনি পাতা সংগ্রহে নেমে পড়েন। 

বুধবার ভোর পর্যন্ত অনেকেই মাঠ,পুকুরপাড়, জমির আইল থেকে থানকুনি পাতা সংগ্রহ করেন।  অনেকে আবার করোনাভাইরাস রোধে থানকুনি পাতার কার্যকারিতা সম্পর্কে ফেসবুকে পোস্টও দেন। কেউ কেউ বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে থানকুনি পাতা সংগ্রহ ও খেতে বলেন। মুঠোফোনে এসএমএসও পাঠান অনেকে।

রাতের আঁধারে থানকুনি পাতা সংগ্রহ করে চিবিয়ে খেয়েছেন- এমন অনেকের দাবি, চরমোনাইর পীর স্বপ্নে দেখেছেন থানকুনি পাতা খেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত করতে পারবে না।

সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন লিংকন বলেন, মধ্যরাতের পর থেকে ঘুম হারাম হয়ে যায়। থানকুনি পাতা সম্পর্কে জানতে লোকজন ফোন করতে থাকে। শেষে ফোন বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হই। 

চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিমের সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসাইন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ গুজব। এ ধরণের কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। একটি মহল পীর সাহেবের নামে গুজব ছড়াচ্ছে।’

কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার বলেন, ‘থানকুনি পাতা খেলে ভাইরাসজনিত রোগ ভাল হবে- এর কোনো ভিত্তি নেই।’

স্বরূপকাঠি: তিনটি থানকুনি পাতা খেলে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার গুজবে তোলপাড় স্বরূপকাঠিতেও। বিভিন্ন পীরের বরাত দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে গুজব ছড়ানো হয়। এরপর রাতভর পাতা সংগ্রহের হিড়িক পড়ে যায় মানুষের মধ্যে। 

থানকুনি পাতা করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত রাখবে- এমন গুজবে স্বরূপকাঠি উপজেলার সাধারন মানুষ রাতের গুম হারাম করে পাতা সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় নেমে যায়। তবে এমন গুজবকে পাত্তা দেয়নি সচেতন লোকজন। 

রফিকুল ইসলাম রুমি নামের একজন ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন, ‘ভোর ৫টায় ফজর নামাজ পড়ার জন্য ঘুম থেকে উঠতে পারে না। কিন্তু রাত ৩টায় উঠে গুজবে কান দিয়ে থানকুনি পাতা সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় নামে! হায়রে বাঙালি, হায়রে মুসলমান, হায়রে ঈমানি শক্তি!’ 

এ ব্যাপারে ছারছীনা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. সৈয়দ শরাফত আলী জানান, এ রকম কোনো কথা তাদের দরবার থেকে বলা হয়নি। এটা একটা গুজব। তবে তিনি বলেন, ‘থানাকুনি পাতা একটা আল্লাহর নেয়ামত। এটা খেলে উপকার ছাড়া, কোনো ক্ষতি নেই।’

ইন্দুরকানী: মঙ্গলবার রাতভর ইন্দুরকানী উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার অধিকাংশ মানুষ ছোটেন গুজবের পেছনে। ফলে ঘুম হনি অনেকের। 

একজন বলেন, রাত ৩টায় হঠাৎ কলিংবেলের শব্দ, দরজা খুলে দেখি ১৫টি থানকুনি পাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বড়ভাই। জানতে চাইলে তিনি বলেন, জৈনপুরের হুজুর স্বপ্নে দেখেছে এই রাতে তিনটি করে থানকুনি পাতা খেলে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন না। আমরা ঘরের সবাই খেয়েছি। তোমরাও খাও। আমি তাকে বললাম, এটা গুজব। কিন্তু কে শোনে কার কথা। 

বুধবার সকালে এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখি গুজবের পিছনে অনেকেই ছুটেছে। রাতের ঘুম হারাম করে একে অপরকে জাগিয়ে থানকুনিপাতা খাইয়েছে। 

উপজেলার টগড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আ. রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, ‘রাতে আমার মেয়েরা কোথা থেকে কী শুনে আমাকে থানকুনি পাতা খাইয়েছে।’ 

আরও পড়ুন

×