ইউএনওর দুর্নীতির ফিরিস্তি দিলেন এমপি কিরণ
বুধবার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলন করেন এমপি মামুনুর রশিদ কিরণ। ছবি: সমকাল
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ১০:৪৩
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় এমপি মামুনুর রশিদ কিরণ। বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় এমপির নিজস্ব কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
লিখিত বক্তব্যে মামুনুর রশিদ কিরণ বলেন, গত বছরের ১১ জুন মাহবুব আলম ইউএনও পদে বেগমগঞ্জে যোগদানের পরই নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দের টাকা থেকে তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে উৎকোচ নেন। উপজেলার ১৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির ক্রয় করার নিয়ম থাকলেও ইউএনও নিজে ঠিকাদার সেজে সাড়ে সাত হাজার টাকার মেশিন সাড়ে ১৭ হাজার টাকার ভাউচার করে বিদ্যালয়গুলোতে স্থাপন করেন। এসব মেশিন থেকে তিনি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে কয়েকজন প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কথা বললে তাদের নানাভাবে হুমকি দেন ইউএনও।
এমপি কিরণ আরও অভিযোগ করেন, উপজেলার হাটবাজার ইজারা মূল্য থেকে ১৫ শতাংশ এবং ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নের বরাদ্দ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে টাকা আদায় করেন ইউএনও মাহবুবুল আলম। রাজস্ব খাতের বরাদ্দ থেকে পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে বরাদ্দ গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ প্রকল্পের ২৪টি ঘর থেকে ইউএনও ১৫ শতাংশ হারে উৎকোচ নিয়েছেন। বৃহত্তর নোয়াখালী বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনী শহরের কয়েকশ' ব্যবসায়ী ও ইটভাটার মালিকের কাছ থেকে বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়ার দোহাই দিয়ে ৫০ লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তুলে আত্মসাৎ করেছেন মাহবুব আলম। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ড্রেজিং মেশিন আটক করে টাকার বিনিময়ে তা ছেড়ে দেন তিনি। এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকায় একটি ঘোড়া কিনলেও ওই ব্যক্তিকে এর দাম পরিশোধ না করেই দিব্যি ঘোড়ায় চড়ে বেড়াচ্ছেন। ওই ঘোড়ার খাবারও তিনি সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে নিয়ে নেন।
ইউএনও মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ গণমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ এনে এমপি কিরণ আরও বলেন, 'সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে অন্যত্র বদলির আদেশ দিলেও তিনি তা মানছেন না।'
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. এবিএম জাফর উল্যাহ, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আনছারি, কামরুজ্জামান রিয়াজসহ আওয়ামী লীগ, যুগলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও মাহবুব আলম বলেন, 'সংসদ সদস্যের কিছু লোক অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। সম্প্রতি বদলির আদেশ হলেও সেটি স্থগিত হয়েছে বলে জানান তিনি।'
