সিলেটে প্রচণ্ড গরমে লোডশেডিং, বিক্ষোভ
বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন মুসল্লি ও এলাকার গ্রাহকরা- সমকাল
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৩ | ১৩:১৩ | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৩ | ১৩:৫২
ফয়ছলুজ্জামান চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি তার নিজ ফেসবুক আইডিতে রোববার ‘একটি নিখোঁজ সংবাদ’ শিরোনাম দিয়ে পোস্ট করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন- ‘বিদ্যুৎ অফিস হতে বিদ্যুৎ হারিয়ে গেছে, যদি কেউ পেয়ে থাকেন, বিদ্যুৎ এর লাইনে দয়া করে সংযোগ করে দিবেন। অনুরোধে অসহায় পাবলিকবৃন্দ’। তার এই পোস্ট থেকে বিদ্যুতের যন্ত্রণায় তিনি কতটুকু অতিষ্ট, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
তারমতো সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আওতাধীন সাড়ে পাঁচ লাখ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে থাকা ১৯ লাখ গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে বিক্ষোভ করে সড়ক অবরোধ করেন মুসল্লি ও এলাকার গ্রাহকরা।
গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশের ন্যায় সিলেটের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং। আজ সোমবার দুপুরে তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিন আগে ৩৭ ডিগ্রি ছিল। একদিকে যেমন গরম পড়েছে, তেমনি বেড়েছে লোডশেডিং যন্ত্রণাও। গরম পড়ার পর থেকে প্রতিদিন এলাকাভেদে ৫-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গ্রাম কিংবা শহর একই অবস্থা। ইফতার, সেহরি ও তারাবির নামাজেও চলে যায় বিদ্যুৎ।
রোববার ইফতারের পর থেকে তারাবির নামাজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন মুসল্লি ও এলাকার গ্রাহকরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সড়ক অবরোধকালে ১৫ মিনিটের মাথায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন তারা। শুধু নয়াসড়কই নয়, গত চারদিন ধরে সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশে চলমান গ্রীষ্ম মৌসুমে দাবদাহ চলছে। এছাড়া পবিত্র রমজান মাসের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় রামপাল ৬০০ মেগাওয়াট বিদুৎকেন্দ্র ও আশুগঞ্জ ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা এবং চট্টগ্রামের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে। গরমের কারণে বিদ্যুতে লোড বেড়েছে দ্বিগুণ। গরমের কারণে সেচ, এসি, ফ্যান, মোটরসহ সব কিছুর ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে সিলেট বিভাগের পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গরমের কারণে চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ কম থাকায় সিলেটে লোডশেডিং হচ্ছে- উল্লেখ করে পিডিবি সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির বলেন, ‘সিলেট জেলায় ১৯০ মেগাওয়াটের স্থলে আমরা পাচ্ছি ১১২ মেগাওয়াট। বিভাগে ৭শ’ মেগাওয়াটের স্থলে মিলছে ৫শ’ মেগাওয়াট। পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে।’ সংকটময় সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সিডিউল করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। কিন্তু বাস্তবে পিডিবি প্রধানের কথার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন গ্রাহকরা। তারা জানান, কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টা আবার কোনো এলাকায় ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পর পর আবার কোনো এলাকায় ৪-৫ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং হয়।
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মহাব্যবস্থাপক আক্তারুজ্জামান লস্কর জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় তারা কম বিদ্যুৎ পান। সেজন্য ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং করতে হয়। কিন্তু গ্রাহকরা জানিয়েছেন, একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আসেনা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান বলে দাবি করেন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া গ্রাহক ফয়ছলুজ্জামান চৌধুরী।
