হেযবুত তাওহীদ-ইত্তেফাকুল উলামা সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
ঈশ্বরগঞ্জে হেযবুত তওহীদ ও ইত্তেফাকুল উলামার মুসুল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সমকাল
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৩ | ১৫:২৩ | আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৩ | ১৫:৪২
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে হেযবুত তাওহীদ ও ইত্তেফাকুল উলামার মুসুল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িসহ পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
বুধবার এ সংঘর্ষ হয়।
হেযবুত তাওহীদ নামের একটি ধর্মীয় সংগঠন ২০১৭ সাল থেকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। সংগঠনটির ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি দায়িত্বে আছেন মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম মুদাব্বিরুল ইসলামের বড় ভাই। সংগঠনের সদস্য বৃদ্ধি ও চেতনা ছড়িয়ে দিতে এলাকাভিত্তিক নানা কর্মসূচি পালন করছেন তিনি। সম্প্রতি হেযবুত তাওহীদের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়। হেযবুত তাওহীদ সংগঠনটি ইসলাম বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে এমন অভিযোগ তুলে লিফলেট পোস্টার সাঁটানো হয় এলাকায়। ইসলাম বাঁচাতে হেযবুত তাওহীদ বিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয় তৌহিদী জনতার পক্ষে।
তৌহিদী জনতার পক্ষে সাঁটানো পোস্টারে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ইসলাম বিদ্বেষী এক সংগঠনের নাম হচ্ছে হেযবুত তাওহীদ। হেযবুত তাওহীদের কাজ হচ্ছে কৌশলে নারীদের ঘর থেকে বের করে আনা ও আলেমদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিদ্বেষ সৃষ্টি করা। তারা সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক ইসলাম পৌঁছে দেওয়ার নামে নিজেদের মনগড়া মতবাদ পৌঁছে দিচ্ছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মুসল্লিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
গত কিছুদিন ধরে বিষয়টি প্রচার হতে শুরু করলে হেযবুত তাওহীদ নেতাকর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তারা গত মঙ্গলবার বিষয়টি থানাকে জানিয়ে নিরাপত্তা চাওয়া হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহীর উচাখিলা শাখার উদ্যোগে হেযবুত তাওহীদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কর্মসূচির ডাক দেয়। বুধবার বেলা তিনটায় উচাখিলা পাট বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে লক্ষীগঞ্জ রোডে পৌঁছালে হেযবুত তাওহীদ ও ইত্তেফাকুল উলামা নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ইট পাটকেলের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুপক্ষ। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে ৮ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হেযবুত তাওহীদের আহত হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম, কবীর মীর ও সারোয়ার হোসেন। আর ইত্তেফাকুল উলামার আবু নাঈম, মো. মিজান, মো. আসাদুল্লাহ, মোহাম্মদ নাঈমসহ ৫ জন। তারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও সংঘর্ষ চলে দফায় দফায়। রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম মুদাফিরুল ইসলামের বাড়িসহ হেযবুত তাওহীদ সমর্থকদের আরও চারটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
ইত্তেফাকুল উলামার উচাখিলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আখতারুজ্জামান বলেন, হেযবুত তাওহীদ ইসলাম বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করায় সাধারণ মানুষকে সুপথে ফেরাতে কর্মসূচি দেওয়া হয়। সভা শেষে মিছিল শুরু করতেই তারা হামলা চালায়। এতে ১৫ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
হেযবুত তাওহীদের ঈশ্বরগঞ্জে উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, ধর্মের কথা বলে যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক তাওহীদের প্রচারণা। তাদের হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। এ সময় সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বাড়ি ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।
- বিষয় :
- ময়মনসিংহ
- হেযবুত তওহীদ
- ইত্তেফাকুল উলামা
- সংঘর্ষ
- আহত