পাওনা টাকা আদায়ে নারীর কবর খননের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১
কবর খুঁড়ে লাশ উত্তোলনের চেষ্টার ঘটনাস্থলে ভিড় করেন উৎসুক জনতা।
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৩ | ১৫:১৫ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৩ | ১৫:১৫
‘পাওনা টাকা’ আদায়ের জন্য এক নারীর কবর খুঁড়ে লাশ উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে রাসেনা বেগম নামে অপর এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার খিয়ারজুম্মা কবরস্থানে।
পুলিশ, নিহত নারীর পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া গ্রামের দিনমজুর আবদুল গফুর অসুস্থ থাকায় স্ত্রী শাহেদা বেগম দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। তিনি সরকারের কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক ছিলেন। হঠাৎ তাঁর স্ট্রোক হলে গত ৭ জুন মারা যান তিনি। জানাজা শেষে স্থানীয় খিয়ারজুম্মা কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শাহেদার বাড়িতে গিয়ে তাঁর কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাওয়ার দাবি করেন একই গ্রামের জোনায়েদ হোসেনের স্ত্রী রাসেনা বেগম। শাহেদার সন্তানরা টাকার বিষয়ে কিছু না জানার কথা বললে তাঁর কবর খুঁড়তে যান রাসেনা ও জোনায়েদ। তাঁদের কর্মকাণ্ড দেখে স্থানীয়রা চিৎকার দিলে তাঁরা পালিয়ে যান। পরে শত শত গ্রামবাসী কবরস্থানে ছুটে যান। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়। দুপুরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাসেনাকে আটক করে থানায় নেয়।
শাহেদার মেয়ে সাবিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মায়ের কাছে কেউ টাকা পায়– এমনটি কখনও আমরা শুনিনি। তিনি নিজেও কোনোদিন বলেননি। কিন্তু হঠাৎ করে রাসেনা এসে এতগুলো টাকা দাবি করেন। এই নারী কখনও বলেন ৩০ হাজার টাকা পান, আবার কখনও বলেন ১ লাখ ২০ হাজার। আমাদের থাকার জায়গা ছাড়া কোনো সম্বল নেই। তিনি দাবি করলেই তাঁকে এত টাকা কীভাবে দেব আমরা। তা ছাড়া আগে কখনও তিনি এ বিষয়ে কাউকে জানাননি। তাই রাসেনাকে বলি– টাকা যদি পান, তাহলে মাফ করে দিয়েন। এতে তিনি নারাজ হওয়ায় রাগ করে বলি, যার কাছে টাকা পান তার কাছ থেকে নেন। এর পর রাসেনা ও তাঁর স্বামী মায়ের কবর খুঁড়তে যান। এটা খুবই ন্যক্কারজনক কাজ। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’
থানা হাজতে আটক রাসেনা বলেন, ছয় মাস আগে ছেলে সহিদার রহমানের জামিন করার সময় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন শাহেদা। আমি গরু বিক্রি করে ৫০ হাজার ও ৭০ হাজার টাকা বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে দিই। কিন্তু এখন টাকা না দিয়ে তারা আমার নামে বদনাম ছড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে সাবিনা বলেন, সহিদারের নামে কখনও মামলা হয়নি যে, তার জামিনের জন্য এতগুলো টাকার প্রয়োজন হবে। আমার ভাইকে কোনোদিন পুলিশও ধরেনি। এসব রাসেনার মিথ্যা দাবি।
তারাগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, লোক মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর সরেজমিন গিয়ে কবরের মাটি সরানো দেখেছি। সেখানে হাজার উৎসুক লোকজন জড়ো হন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে রাসেনাকে আটক করে থানায় আনা হয়। এ ঘটনায় শাহেদার স্বামী আবদুল গফুর ওই দু’জনের নামে মামলা করলে আদালতের মাধ্যমে রাসেনাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি জোনায়েদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সহিদারকে নিয়ে রাসেনার দাবির বিষয়ে ওসি জানান, শাহেদার ওই ছেলের নামে কখনও মামলা হয়নি, তাকে কখনও গ্রেপ্তারও করা হয়নি।
- বিষয় :
- পাওনা টাকা
- মরদেহ
- লাশ উত্তোলন
- রংপুর
