যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে এসআই আটক
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৪৯ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৫৮
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নে বোনের মোবাইল ফোন চুরি হওয়ার পর ওই পুলিশ কর্মকর্তা যুবকটিকে ডেকে এনে বেঁধে তিনিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য পিটিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ অভিযুক্তের বোন শারমিন আক্তার ও ভগ্নিপতি মিজানুর রহমানকে মঙ্গলবার বিকেলে ভাটিয়ারী নিজ বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে আটক করা হয় অভিযুক্ত এসআই ইকবাল পারভেস রায়হানকেও।
নিহত মোহাম্মদ এজাহার মিয়া (২৭) সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মোহাম্মদ মফিজের ছেলে। তার দেড় বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
এজাহার মিয়ার শাশুড়ি মরিয়ম বেগম জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশ ট্রেডিং (আর আর এফ) লাইনে কর্মরত এসআই রায়হান এজাহারকে মোবাইল ফোনে ভাটিয়ারী কলেজপাড়ায় তার নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় এসআই রায়হানসহ তার বোন ও ভগ্নিপতি মিলে মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে এজাহারের হাত–পা রশি দিয়ে বেঁধে পেটান।
তিনি জানান, এরপর মঙ্গলবার ভোর রাত ৫টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে এজাহারকে মুমূর্ষু অবস্থায় ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড়ের ব্রিজ এলাকায় নিয়ে যান তারা। সেখান থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এজাহার। স্ত্রী পপি ও শাশুড়ি মরিয়ম তাকে স্থানীয় বিএসবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে নিয়ে আসেন তারা।
নিহত এজাহারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
অভিযুক্ত এসআই রায়হান মুঠোফোনে জানান, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কিছুদিন আগে তার বোনের একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ বিষয়ে তিনি সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে এজাহারকে তিনি শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
স্থানীয় মেম্বার সাব্বির আহমেদ জানান, ওই যুবককে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর নিজ বসতঘরের সামনে সারা রাত দফায় দফায় পিটিয়েছেন এসআইসহ তার বোন ও ভগ্নিপতি।
ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যার করা হয়েছে। একজন আইনের লোক হয়ে এভাবে পিটিয়ে মারাতে এলাকাবাসী চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শামীম শেখ বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি থানায় স্থানীয়রা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যায়। লাশটির প্রাথমিক সুরাতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্ত জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, নিহত যুবকের লাশ ময়না তদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। রাতে (মঙ্গলবার) পরিবারের সদস্যরা থানায় মামলা করতে আসলে প্রকৃত অপরাধী যারা; তাদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হবে। তবে অভিযুক্তদের আটকের পর এলাকার পরিস্থিতি শান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
