ভাঙ্গায় জাফরউল্লাহ-এমপি নিক্সন দ্বন্দ্ব, হামলার ঘটনায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ
ফরিদপুর অফিস ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২০ | ১১:২৭
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রাম্য দলাদলির জেরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর সমর্থকদের ওপর এমপি নিক্সন চৌধুরীর সমর্থকদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় লুটপাট ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের বড় পানাডুবি গ্রামে এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক রবু খালাসী ও বাদল মাতুব্বরের লোকজন প্রতিপক্ষ কাজী জাফরউল্লাহর সমর্থক ইলিয়াস মাতুব্বর, সরোয়ার মাতুব্বরসহ ১০-১২টি পরিবারের ওপর হামলা চালায় বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।
হামলার শিকার আহত সরোয়ার মাতুব্বর বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে কাজী জাফরউল্লাহর নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়াই আমাদের বড় অপরাধ। আমার ছোট ভাই ইলিয়াস মাতুব্বর ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাকে ৩ এপ্রিল রাতে প্রতিপক্ষ কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়। এ ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করতে গেলে ভাঙ্গা থানা কোনো মামলা না নিয়ে শুধু একটি অভিযোগ গ্রহণ করে। পরে মঙ্গলবার আমাদের ওপর আবারও বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সবাই এমপি নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক। তাদের দলনেতা বাদল মাতুব্বর একই ওয়ার্ডের সভাপতি।
ইলিয়াস মাতুব্বরের কলেজপড়ুয়া মেয়ে তানজিলা বলেন, আমরা দ্বারে দ্বারে ও থানায় ঘুরেও কোনো আইনি সহায়তা পাইনি। তানজিলা আরও বলেন, ৩ তারিখে আমার বাবাকে আহত করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবারের হামলার ঘটনার কোনো মামলা নেয়নি পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম দুটি হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হামলার শিকার পরিবারদের যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছি। আমি শুনেছি, দুটি ঘটনার মধ্যে শুধু ৩ তারিখের ঘটনাটির একটি মামলা হয়েছে।
ওসি শফিকুর রহমান জানান, ৩ এপ্রিলের ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে মঙ্গলবারের ঘটনার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে ওই ঘটনারও মামলা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে বাদল মাতুব্বর বলেন, ৩ এপ্রিল ও মঙ্গলবারের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমি কাজী জাফরউল্লাহ বা নিক্সন চৌধুরীর কারোর দল করি না। নিক্সন চৌধুরীর দল করে রবু খালাসীরা। তারাই ইলিয়াস মাতুব্বরদের বিপক্ষের। তাদের উভয় দলের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।
- বিষয় :
- ফরিদপুর
- আওয়ামী লীগ
