শেরপুরে মাছের ড্রামে লুকিয়ে বাড়ি আসছে মানুষ
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২০ | ১১:৪৭
করোনার বিস্তার রোধে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারখ্যাত বগুড়া জেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাইরের কোনো মানুষ যেন ঢুকতে না পারে সেজন্য জেলার প্রবেশমুখ শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী বাজারে বসানো হয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। এখানে পুলিশের কড়াকড়ি আরোপের কারণে অন্য জেলার লোকজন সহসায় ঢুকতে পারছেন না। তবে এর পরও বসে নেই তারা। নানা পন্থা অবলম্বন করে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা থেকে প্রতিনিয়ত লোকজন এই জেলায় প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে মাছবাহী পিকআপে মাছের ড্রামে করে লুকিয়ে আসছেন তারা। এ ছাড়া জরুরি সেবা, গণমাধ্যম, খাদ্যপণ্য ইত্যাদি লেখা ভুয়া স্টিকার লাগানো যানবাহনেও যাত্রী পরিবহন চলছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পুলিশের চেকপোস্টে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মাছের ড্রামে লুকিয়ে যাত্রী নিয়ে আসা পিকআপ আটকের পর এমন তথ্যই ওঠে আসে।
জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) গাজীউর রহমান, শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ওই তল্লাশি অভিযানের নেতৃত্ব দেন। পরে আটক পিকআপের যাত্রীরা এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাওয়ায় তাদের নামপরিচয় লিপিবদ্ধ করে সংশ্নিষ্ট জেলা-উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।
শেরপুর থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মরণব্যাধি করোনাভাইরাস যেন মহামারি রূপ নিতে না পারে সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সরকারি নির্দেশনা মানছেন না তারা। তাই প্রতিদিনই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এবং এই ভাইরাসটির বিস্তার রোধে ইতোমধ্যে এই জেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাইরের কোনো মানুষ যেন ঢুকতে না পারে সেজন্য জেলার প্রবেশমুখসহ সীমাবাড়ী বাজারসহ একাধিক স্থানে চোকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এর পরও অনেক মানুষ নানা পন্থায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি পিকআপে মাছের ড্রামে লুকিয়ে বগুড়ার দিকে আসছিলেন। তবে পিকআপটিতে তল্লাশি চালানোর পর ধরা পড়েন তারা। কিন্তু নিম্ন আয়ের ওইসব লোকজন এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাদের নাম-পরিচয় লিপিবদ্ধ ও যাচাই-বাছাই করে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য সংশ্নিষ্ট জেলা-উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
- বিষয় :
- শেরপুর
