খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় ডিলারের স্ত্রী, মা ও ভাইয়ের নাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২০ | ০০:০৫
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নে ১০ টাকা মূল্যের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় ডিলারের স্ত্রী, মা ও ভাইয়ের নাম রয়েছে।
ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড দেবাশুর গ্রামের তালিকায় তারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে ডিলার বলছেন, এ অনিয়মের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা দায়ী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার জয়ন্ত মন্ডল তার স্ত্রী মেরি রানী মন্ডল, মা মঞ্জু রানী মন্ডল, ভাই পলাশ মন্ডলের নামে কার্ড করে করেছেন। প্রতি মাসে তাদের কার্ডের ৩০ কেজি করে ৯০ কেজি চাল উত্তোলন করে আসছেন। এছাড়া অনেক আগে ওই গ্রামে বসবাসকারী সমাপ্তি মন্ডল নামে এক বিধবা নারী, তার স্বামীর নাম ঈশান মন্ডল দেখিয়ে আরও একটি কার্ড তৈরি করেন। সেই ভুয়া কার্ডের চাল জয়ন্ত মন্ডল নিজে উত্তোলন করছেন। তবে ঈশান নামে বর্তমান ওই গ্রামে কোন বয়স্ক লোক না থাকলেও ডিলার জয়ন্ত মন্ডলের ১০ বছরের ছেলের নাম ঈশান মন্ডল।
তারা আরো জানান, অতি দরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রী এ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করেছেন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ডিলার গরিব পরিবারকে বঞ্চিত করে নিজেই কৌশলে চারটি কার্ডের চাল উত্তোলন করে খাচ্ছেন। আমরা তার ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জনাচ্ছি।
ডিলার জয়ন্ত মন্ডল নিজের স্ত্রী, মা, ভাই ও এক বিধবা নারীর নামে কার্ড রয়েছে স্বীকার করে বলেন, তালিকা চেয়ারম্যান-মেম্বাররা করেছেন। এর জন্য আমার কোন দায়বদ্ধতা নেই।
তবে ওই নারীর স্বামীর নাম কেন ঈসান মন্ডল কেন লেখা হয়েছে? জানতে চাইলে এ প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি। তিনি প্রতি মাসে এ ৪টি কার্ডের চাল উত্তোলন করে নিচ্ছেন বলেও স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে পুইশুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলীউজ্জামান পানা মোল্যার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবাশীষ মন্ডল বলেন, আমার ওয়ার্ডের তালিকায় কোনো অনিয়ম নেই। আমি নিজে যাচাই-বাছাই করে পরিষদে এ তালিকা জমা দিয়েছি।
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ বলেন, ওই ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুলকে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলেছি।
- বিষয় :
- গোপালগঞ্জ
- ১০ টাকার চাল