ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

গোপালগঞ্জে আদালতের ৭ কর্মচারীর বেতন বন্ধ

গোপালগঞ্জে আদালতের ৭ কর্মচারীর বেতন বন্ধ
×

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২০ | ২৩:৩০

গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৭ কর্মচারীর বেতন গত ৭ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে এসব কর্মচারীরা বেতনভাতা না পেয়ে পরিবার নিয়ে দুর্ভোগে আছেন।

গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আজাদুর রহমান জানান, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করা হয়। সে সময় গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জেলা প্রশাসনের ১৬ কর্মচারী যোগদান করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়কে ওই ১৬ কর্মচারিকে আত্মীকরণ করতে বলে। কিন্তু তারা আত্মীকরণ না হয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে তাদের আত্মীকরণের আদেশ প্রদান করা হয়। সরকার এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। এটি বিচারাধীন রয়েছে।  

তিনি আরো জানান ১৬ কর্মচারীর মধ্যে সেই সময় দু’জন ডিসি অফিসে ফিরে যান। ১ জন চাকুরিচ্যুত হয়েছেন। সম্প্রতি ৬ আরো জন ডিসি অফিসে যোগ দিয়েছেন। এখন তারা ৭ জন রয়েছেন।  ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের বেতর ভাতা গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক দিয়ে আসছিলেন। জেলা প্রশাসক  গত অক্টোবর মাস থেকে জারিকারক ও নভেম্বর মাসে ৬ বেঞ্চ সহকারীর বেতন ভাতা বন্ধ করে দেন। ৭ কর্মচারীর বেতন ভাতা বন্ধের আদালত বা প্রশাসনিক কোন আদেশ নেই। 

তিনি আরো জানান, তাদের বেতন ভাতা চালুর জন্য গত ২০ জানুয়ারি ও ৮ এপ্রিল গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি।

ওই আদালতের জারিকারক দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘ ৭ মাস বেতন ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। করোনা সংক্রমণের মধ্যে এ সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। কেউ টাকা ধার দিচ্ছে না। দোকান থেকে বাকিতে পণ্য কিনতে পারছি না। 

গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার সময় আমাদের জনবল, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সাপোর্ট দিয়ে আমরা চিফ জুজিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে সহযোগিতা করেছিলাম। ২০১৪ সালের মধ্যে তাদের সব নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন ডিসি অফিসে ফিরে এসেছেন। ৭ জন এখানো ফিরে আসেনি। তাদের পদ শূন্য হয়নি। তাই নতুন লোক নিয়োগ দিতে পারছি না। ডিসি অফিসের কাজের অসুবিধা হচ্ছে। তারা ডিসি অফিসে যোগ দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ফিরে না আসলে তাদের পেনশন নিয়েও জটিলতা তৈরি হবে।

আরও পড়ুন

×