বগুড়ার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের নার্সের করোনা শনাক্ত, ২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২০ | ০১:৪০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
বগুড়ার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের একজন নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মচারী এবং চিকিৎসাধীন যক্ষ্মা রোগীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তারা করোনা আক্রান্ত কি’না তা নিশ্চিত হতে বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতালের ২ চিকিৎসক, ৯ নার্সসহ ১৮ জন কর্মচারী এবং ভর্তি থাকা ৬ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
তবে তাদের পরীক্ষার ফলাফল ২৪ ঘণ্টা পরও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মেলেনি। অবশ্য কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, খুব দ্রুতই তাদের ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। বলা হচ্ছে পরীক্ষায় ওই হাসপাতালের এক বা একাধিক কর্মকর্তা করোনা পজিটিভ হন তাহলে তাদের আইসোলেশনে পাঠানো হবে। আর রোগীদের করোনা আইসোলেশন ইউনিট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। কিন্তু আপাতত বক্ষব্যাধি হাসপাতাল লকডাউনের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
বগুড়ার নিশিন্দারা উপশহর এলাকায় অবস্থিত ২০ শয্যার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের একজন নার্সকে বুধবার রাতে করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত করা হয়। তিনি করোনায় আক্রান্ত তার ভগ্নিপতি, তার বোন শহীদ জিয়াউর রহামন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত নার্স এবং ১২ বছর বয়সী ভাগ্নের সংস্পর্শে গিয়েছিলেন। এরপর গত ৩ মে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ এলেও কোন উপসর্গ না থাকায় ওই নার্সকে হাসপাতালের কাছেই তার ভাড়া বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে আকস্মিকভাবে তিনি কোন অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াই একটি রিকশায় চড়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নার্সের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য স্টাফ এবং রোগীদের কি করা হবে- তা নিয়ে বুধবার রাতেই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, যেহেতু ওই হাসপাতালে ৬ জন যক্ষ্মা রোগী চিকিৎসাধীন সে কারণে হাসপাতালটি লকডাউন না করে প্রথমে সকল স্টাফ এবং রোগীদের নমুনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গাওসিল আজিম চৌধুরী জানান, একজন নার্স আক্রান্ত হওয়ার পর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সসহ সকল স্টাফদের নমুনা পরীক্ষা করানোর জন্য বুধবার রাতেই নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেখানে ভর্তি থাকা রোগীদেরকেও নমুনা পরীক্ষার করাতে বলা হয়।
বগুড়া বক্ষব্যাধি হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই হাসপাতালে কর্মরত ২ চিকিৎসক, ৯ নার্সসহ ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৬ জন রোগী বৃহস্পতিবার সকালে করোনা আইসোলেশন ইউনিট বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে যান। বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের স্টাফ ও ভর্তি থাকা যক্ষ্মা রোগীদের সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনাগুলো নিয়ম অনুযায়ী বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
কবে নাগাদ তাদের নমুনার ফলাফল পাওয়া যবে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে আমরা আশা করছি আজই (শুক্রবার) হয়তো পেয়ে যেতে পারি।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গাওসিল আজিম চৌধুরী জানান, রিপোর্টে যার বা যাদের করোনা পজিটিভ আসবে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে। আর যাদের নেগেটিভ আসবে তারা যথারীতি হাসপাতালেই দায়িত্ব পালন করবেন।