ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

রাতের আঁধারে অসহায় মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন তারা

রাতের আঁধারে অসহায় মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন তারা
×

রাতের আঁধারে অসহায় এক ব্যক্তির ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন ‘চরপাতা ইসহাকীয়া মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী কল্যাণ পরিষদ’ এর সদস্যসা -সমকাল

ইন্দ্রজিৎ সরকার

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২০ | ০৫:২৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

‘আপনি থাকুন ঘরে, আমরা আসছি আপনার দরজায়’ এমন স্লোগান নিয়ে মার্চের শেষ সপ্তাহে কাজ শুরু করেন ছয় বাল্যবন্ধু। তাদের কেউ আইনজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ ঠিকাদার। প্রবাসীও আছেন দু’জন। করোনাকালের সংকট মোকাবেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রাতের আঁধারে তারা পৌঁছে দেন অসহায় মানুষের ঘরে। 

এপ্রিল ও মে মাসের শুরুতে নিজেদের গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুরের রায়পুরে এ সহায়তা দিয়েছেন তারা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে একই নিয়মে প্রতি মাসে সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলেও জানা গেল।

ছয় বন্ধুর একজন আইনজীবী শাকিল পাটোয়ারী সমকালকে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া হলেও তাতে অভাবী মানুষগুলোর প্রয়োজন পুরোপুরি মিটছে না। কর্মহীন এই মানুষেরা তখন উপার্জনের আশায় বা সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘরের বাইরে গিয়ে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন। এ কারণে আমরা তাদের ঘরে থাকতে উৎসাহিত করছি। পাশাপাশি আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা দিচ্ছি। কারণ পেটে ক্ষুধা থাকলে তারা ঘরে বসে থাকার আহবান শুনবেন না।

শাকিল জানান, সারাদেশেই শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ এখন বিপাকে আছেন। তবে বড় পরিসরে সহায়তা দেওয়া তাদের এই ছোট্ট দলটির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারা নিজেদের এলাকা অর্থাৎ রায়পুর উপজেলার পাঁচ নম্বর ইউনিয়নের ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বেছে নিয়েছেন। এখানকার প্রকৃত অভাবী মানুষের একটি তালিকা তৈরি করে গত ১ ও ২ এপ্রিল ৭৫ জনকে এবং ১ ও ২ মে ১০০ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম দফায় প্রত্যেককে ২৭ কেজি ও দ্বিতীয় দফায় ১৪ কেজি পণ্যের প্যাকেট দেওয়া হয়। এসব প্যাকেটে চাল, ডাল, আটা, আলু, তেল, লবণ, পেয়াজ ও সাবান ছিল। রমজান মাস শুরু হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় যুক্ত হয়েছে ছোলা ও মুড়ি। প্রত্যেক প্যাকেটে জিনিসপত্রের পরিমাণ কমিয়ে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে দেওয়া যেত। তবে তারা চেয়েছেন, যে পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে তাদের যেন অন্তত সপ্তাহখানেক খাবারের চিন্তা করতে না হয়।

তিনি বলেন, মূলত করোনাকালে বেকার হয়ে পড়া রিকশা-ভ্যান-সিএনজি অটোরিকশার চালকদের এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার নিম্ন মধ্যবিত্ত যেসব মানুষ সংকটে আছেন, কাউকে মুখ ফুটে বলতেও পারছেন না, এমন লোকদের সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। সবাইকে এক স্থানে জড়ো করে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ দেওয়ার রীতি এখানে মানা হয়নি। বরং চুপি চুপি সন্ধ্যার পর বের হয়ে তালিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যক্তির বাড়িতে প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এতে কারা সহায়তা পাচ্ছেন তা অন্যদের জানার সুযোগ ছিল না। এভাবে সবাই যদি সামর্থ্য অনুযায়ী নিজের এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলেই এই যুদ্ধটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

ছয় বন্ধুর এই দলটিতে রয়েছেন- বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ, স্বর্ণ ব্যবসায়ী মেহরাজ হোসেন রিপন, ঠিকাদার জসীম উদ্দিন, মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী মাকসুদ হোসেন ও জাকির হোসেন। তারা স্কুলজীবনের বন্ধু। এ কারণে সহায়তা দেওয়ার সময় স্কুলের নামেই একটি সংগঠন খুলেছেন- ‘চরপাতা ইসহাকীয়া মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী কল্যাণ পরিষদ’।

আরও পড়ুন

×