স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের পর শ্বশুরের দাঁত ভাঙলেন যু্বক
আটক দীপু চন্দ্র রায় -সমকাল
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মে ২০২০ | ০১:৪২ | আপডেট: ১০ মে ২০২০ | ০১:৪৯
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশে বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় শ্বশুরের মুখের ২টি দাঁতও ভেঙে দিয়েছেন তিনি। পরে ওই যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।
উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব বালাতারী গ্রামে শনিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ভাই পবিন চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ওই এলাকার পরেশ চন্দ্র রায় জানান, উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পুর্ব বালাতারী গ্রামের নগেন চন্দ্র বর্মনের মেয়ে চন্দনা রানী বর্মনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের রোশন শিমুলবাড়ী গ্রামের দুলাল চন্দ্র রায়ের ছেলে দীপু চন্দ্র রায়ের সাড়ে চার বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এরেই মধ্যে তাদের সংসারে একটি মেয়ে জন্ম নেয়। তারপরও স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন দীপু চন্দ্র। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় ভাবে বিবাদ মিমাংসা করে দেন জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা। এক পর্যায় নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২৪ এপ্রিল চন্দনা বাবার বাড়িতে চলে আসে। এর পর দীপু তার স্ত্রীকে বাড়িতে ফেরার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন। এতে চন্দনা রানী রাজি না হলে মোবাইলে হুমকি দেন দীপু। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে দীপু তার শ্বশুর বাড়িতে শনিবার স্ত্রীকে নেওয়ার জন্য যান। সেখানে জোড় করে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। চন্দনা এতে রাজি না হলে তাকে কিল ঘুষি মারতে থাকেন দীপু। এক পর্যায়ে কোমড় থেকে চাকু বের করে চন্দনার বুকে ও পেটে আঘাত করে। এ সময় বৃদ্ধ পিতা নগেন চন্দ্র বর্মন মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার মুখে ঘুষি মারেন দীপু। এতে শ্বশুরের মুখের ২টি দাঁত ভেঙ্গে যায়। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে দীপুকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি জানান, পরে আহত নগেন চন্দ্র বর্মন ও চন্দনাকে ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চন্দনার অবস্থা অবনতি হলে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা জানান একাধিকবার বিচারে মিমাংসা করার পরেও মেয়েটিকে নির্যাতন করে আসছে ছেলেটি। পরে ছেলেটিকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে নির্যাতিতের পরিবার।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার এসআই হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, অভিযুক্তকে স্থানীয়রা আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে মেয়ের ভাই বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।