চিরদিনের মতো পৈত্রিক ভিটা থেকে বিদায় নিলেন গোলাম আরিফ টিপু
আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপুর মরদেহে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। ছবি: সমকাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৪ | ১৬:১৪ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৪ | ১৭:৫৮
শেষবারের মত পৈত্রিক ভিটা থেকে বন্ধু আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খীদের অশ্রুভেজা বিদায় নিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভাষা সৈনিক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের চিফ প্রসিকিউটর, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপু।
আজ শনিবার সকাল ৮টায় তাঁর নিজ গ্রাম রানীহাটি বাজারের ঈদগাহ ময়দানে গার্ড অফ অনার প্রদান শেষে তৃতীয় দফা জানাজা পড়ানো হয়। এর আগে নিজ এলাকা রানীহাটিতে তাঁর মরদেহ আসলে শেষবারের মত একনজর দেখার জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ ভিড় করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে পরিবারের পক্ষে তাঁর মেয়ে, স্বজন ও বন্ধুরা তাঁর স্মৃতিচারণ করেন এবং সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। শেষে লাশবাহী গাড়িতে করে রাজশাহী কলেজ চত্বরে চতুর্থ জানাযার জন্য রওনা করেন তাঁর স্বজনরা।
জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিব খান এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, মহান এ ব্যক্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জ তথা সারাদেশের একজন সম্পদ ছিলেন। আমরা তাঁর মত একজন গুণী ব্যক্তিকে হারালাম। এতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।
ভাষা সৈনিক গোলাম আরিফ টিপুর মেয়ে তার বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং দেশ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী তাঁর বাবাকে যে সম্মান দেখিয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী কলেজ মাঠে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মাননীয় রাসিক মেয়র জনাব এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
এদিকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে নিউ বেইলি রোডে মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টের নিজ বাসায় গোলাম আরিফ টিপুর প্রথম জানাজা এবং তার কর্মস্থল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিকেলে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
৯৩ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গোলাম আরিফ টিপু ১৯৩১ সালের ২৮ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের (তৎকালীন মালদহ জেলা, ব্রিটিশ ভারত) শিবগঞ্জ উপজেলার কমলাকান্তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আফতাব উদ্দিন আহমদ ছিলেন জেলা রেজিস্ট্রার। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি কালিয়াচর বিদ্যালয় থেকে ১৯৪৮ সালে মাধ্যমিক ও রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯৫০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। একই কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি তিন সন্তানের বাবা।
মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষাসৈনিক এ আইনজীবী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের রাজশাহী অঞ্চলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে ২০১৯ সালে একুশে পদক দেওয়া হয়। গোলাম আরিফ টিপু ১৯৫৮ সালে আইনজীবী হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি একাধিকবার রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।
- বিষয় :
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- ভাষা সৈনিক
