একসঙ্গে বিষপান, ছেলেটির মৃত্যু– মেয়েটির জীবনও শঙ্কায়
মুরাদ হোসেন
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪ | ১৬:৩৮ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৪ | ১৬:৫২
দু’জনের কেউই প্রাপ্তবয়স্ক নয়। ছেলেটি কেবল এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, মেয়েটি পড়ছে নবম শ্রেণীতে। দু’বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। বিয়ে করে সংসার পাততে চায়। তবে এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় উভয় পরিবার। এতে অভিমান জমে কিশোর মনে। দু’জনেই এক সঙ্গে স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী ভিডিওকলে থাকা অবস্থায় নিজ নিজ বাড়িতে বিষপান করেন। গত ৪ এপ্রিল জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার খাঁড়িতা গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আজ মঙ্গলবার ভোররাতে মারা গেছে কিশোর প্রেমিক। কিশোরী প্রেমিকা এখনও চিকিৎসাধীন।
বিষপানের রাতেই দুই পরিবারের লোকজন তাদের জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানেই প্রেমিক মুরাদ হোসেন মারা গেছে আজ। সে ক্ষেতলালের খাঁড়িতা গ্রামের দোলন শেখের ছেলে। একই উপজেলার বড়তারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে মুরাদ। তার কথিত প্রেমিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জয়পুরহাট থেকে নেওয়া হয়েছে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে। ওই কিশোরীও একই গ্রামের বাসিন্দা। সে নবম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই পরিবারের তাদের বিয়ে নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। পারিবারিকভাবে মুরাদকে মালয়েশিয়া পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। ঈদের পরই তার চলে যাওয়ার কথা। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি এই কিশোর-কিশোরী যুগল। প্রিয়জন ছেড়ে দূরে থাকার যন্ত্রণা না সইতে বিষপানের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ৪ এপ্রিল তারা নিজ নিজ বাড়িতে বিষপান করে। তাদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুইদিন চিকিৎসা নিয়ে তারা বাড়ি ফেরে। তবে সোমবার রাতে মুরাদ আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাকে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এদিকে মুরাদের অসুস্থতার কথা শুনে রাতে মেয়েটির অবস্থাও অবনতি হয়। তাকেও ভর্তি করা হয় একই হাসপাতালে। চিকিৎসকরা অবস্থার অবনতি দেখে রংপুর মেডিকেলে স্থানান্তর করেন।
মুরাদের বাবা দোলন শেখ বলেন, ‘আমার বিয়ে দিতে কোনো আপত্তি ছিলনা। কিন্তু বয়স হয়নি তো। তাই আইন ও সমাজের কাছে আমি দোষী হতে চাইনি।’ সে কারণেই ছেলেকে মালেশিয়াতে পাঠাতে চাইছিলেন। নিয়তি তাঁকে পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে দিলো না। ছেলের মৃত্যু নিয়ে কারও প্রতি অভিযোগও নেই।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ওই কিশোরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ না থাকায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
