ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাটে চেকপোস্ট বসিয়ে নজরদারি

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাটে চেকপোস্ট বসিয়ে নজরদারি
×

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড়

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২০ | ১১:০৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় বসবাসরত দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ গত শুক্রবার থেকেই শিমুলিয়া-কাঠাঁলবাড়ী নৌরুটে পদ্মা পাড়ি দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন। ফলে গত তিনদিন ধরে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে প্রতিবছর ঈদ ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্নে নৌরুট পারাপার নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশ বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলেও এবারের চিত্র ভিন্ন।

নির্বিঘ্ন পারাপার নিশ্চিত করার পরিবর্তে এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রোববার সকাল থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা একাধিক স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঈদ ঘরমুখো কোনো যাত্রীকে শিমুলিয়া ঘাটের দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। 

যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব নিয়ন্ত্রণে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় চেকপোস্ট বসিয়েছে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ। ঘাটের ৩ কিলোমিটার অদূরে টোল প্লাজায় যানবাহনে চড়ে আসা যাত্রীদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক নজরদারি থাকলেও ঈদ ঘরমুখো মানুষ নানা কৌশলে এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করে শিমুলিয়া ঘাট হয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যাওয়া অব্যাহত রেখেছে বলে ঘাট সূত্রে জানা গেছে।

রোববার সকাল থেকেই শিমুলিয়া-কাঠাঁলবাড়ী নৌরুটে ফেরিতে চড়ে পদ্মা পাড়ি দিতে শুরু করেছেন ঘরমুখো যাত্রী। ৪টি রো রো ফেরিসহ বর্তমানে নৌরুটে ১৪টি ফেরি চলাচল করছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘাট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক সাফায়েত আহমেদ জানান, করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৩ মার্চ থেকে নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। জরুরি পরিসেবার কারণে ফেরি চলাচল সীমিত আকারে চালু রাখলেও কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থলে ফেরা এবং ঈদ ঘরমুখো মানুষের গ্রামের বাড়ি ফেরার কারনণেনৌরুটে ফেরি চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হয়েছে। শুক্রবার থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতেই গাদাগাদি করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বর্তমানে ৪টি রো রো ফেরিসহ নৌরুটে ১৪টি ফেরি চলাচল করছে। সকাল থেকে দিনভর যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পায় এবং মধ্যরাত থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ছোট ছোট যানবাহন ও পণ্যবাহী গাড়ির অত্যধিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাওয়া নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সিরাজুল কবির জানান, গত শুক্রবার থেকে শিমুলিয়া ঘাটের চিত্র পাল্টে গেছে। করোনার কোনো ভয় নেই, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই শত শত মানুষ ছুটছে নিজ নিজ গন্তব্যে।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চন্দ্র জানিয়েছেন, ১৪টি ফেরি চলাচল করলেও ঈদ ঘরমুখো যাত্রীদের গাড়ি ও যাত্রী চাপে ফেরিতে লোড-আনলোড করতে সমস্যা হচ্ছে। 


আরও পড়ুন

×