ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ঝড়ে `উড়ে যেতে পারে` হাবিজার সংসার

ঝড়ে `উড়ে যেতে পারে` হাবিজার সংসার
×

জীর্ণ ঘরের সামনে হাবিজা- সমকাল

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২০ | ২৩:১২ | আপডেট: ১৮ মে ২০২০ | ০০:২০

ছনের বেড়ার এক চালা টিনের খুপড়ি ঘরে বসত হাবিজাদের। স্বামী, সন্তান, নাতি-নাতনী নিয়ে খুপড়ি ঘরেই দিন কাটে তার। বাতাসে দোল খায় নড়বড়ে ঘরটি। চরম শঙ্কা নিয়ে কাটে হাবিজাদের প্রতিটা প্রহর। স্বামী দিন মজুরি করে, নিজে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালায় কোনো রকম।কিন্তু খুপড়ি ঘরটি মেরামত বা নতুন করে করার সামর্থ্য যে নেই তাদের। এই মৌসুমে ঝড়ে হাবিজার জীর্ণ ঘরটি উড়ে যেতে পারে। মাথা গুঁজবার ঘর হারাবার শঙ্কায় দিন কাটছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের ওই পরিবারটির। 

উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের হাবিজার স্বামী আশ্রব আলী (৫৮)। তিনি কখনও রিকশা চালান, কখন ধানের জমিতে কামলা দেন, কখনও আবার মানুষের বাড়িতে কাঠ কাটেন। পায়ে সমস্যা থাকায় ঠিক মতো চলাচল করতে পারেন না।

হাবিজা-আশ্রব দম্পতির এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের এক ছেলে আবদুল মালেক পূর্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন না হওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। তার স্ত্রী ও দুই সন্তানও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপার্জনে চলেন।

তাদের ভিটেতে ২ শতাংশের মতো জমি থাকলেও তাতে রয়েছে ছোট্ট একটি জীর্ণ ঘর। টিনের এক চালায় চারপাশে ছনের বেড়া দিয়ে তৈরি ঘর হাবিজাদের।

ছোট্ট ঘরটিতে ছেলেকে বিয়ে করানোর পর থেকে রাতের বেলায় ঘরে থাকেন না বাবা-মা। পাশের বাড়ির খোলা বারান্দায় ঘুমান তারা। ছেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকেন জীর্ণ ঘরটিতে।

সরকারিভাবে জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় অসহায়দের বাড়ি করে দিলেও এ অসহায় পরিবারটি কারো নজরে আসেনি। সম্প্রতি পরিবারটি নজরে আসে সমকালের পাঠক সংগঠন সুহৃদ সমাবেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজুর। তিনি অসহায় পরিবারটিকে করোনার এ দুর্যোগে কিছু খাদ্য সহায়তা দেন।

তিনি জানান, অসহায় পরিবারটির জীর্ণ ঘরটি এ বছরের ঝড়ে কোনোভাবেই টেকানো সম্ভব নয়। যদি নিজের সামর্থ্য থাকতো তবে প্রশস্থ করে সুন্দর টিনের একটা দোচালা ঘর করে দিতাম। নিজের সামর্থ্য না থাকায় অসহায় পরিবারটির ঘর মেরামত বা সুন্দরভাবে করে দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেন তিনি। 

হাবিজা খাতুন জানান, ‘যখন ঝড় আহে তহন বুকটা ধরপর করে। কহন না জানি ঘরডা উড়ায়া লইয়্যা যায়। আমরা খাইতাম পাইনা, ঘরডা ঠিক করবাম কিবায়। আমরারে তো সরহার দেহে না।’ 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, পরিবারটির জন্য কিছু করা যায় কি না তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×