হতদরিদ্রের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় ২ ইউপি সদস্যের মোবাইল নম্বর
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২০ | ০৪:৫০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
এবার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের জন্য করা তালিকায় এক ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্যের মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। ঈদ উপহারের জন্য করা তালিকায় উপকারভোগীদের নামের পাশে জেলার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদের একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্যের (মেম্বার) নম্বর দেওয়া হয়েছে। এতে উপকারভোগীর বদলে ওই ইউপি সদস্যরা পাবেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা! এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নয়টি উপজেলার ৭৫ হাজার পরিবারকে দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার। উপহারের জন্য গত রোববার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ ৩২৮ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাটি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বকুল পরিষদের নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দিয়েছেন। তবে ওই তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তালিকার ১২ নম্বর ক্রমিকে মজুর হিসেবে উল্লেখ করা আড়িয়ল গ্রামে বাসিন্দা উষা রানী দাসের নামের পাশে তার মোবাইল নম্বরের বদলে দেওয়া হয়েছে পরিষদের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য সুমিত্রা রানী দাসের নম্বর। আর ২৮৮ নম্বর ক্রমিকে ডালপা গ্রামের বাসিন্দা ও দিনমজুর নায়েব আলীর নামের বিপরীতে দেওয়া হয়েছে ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান মিয়ার মোবাইল নম্বর। ফলে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২ হাজার ৫০০ টাকা ওই দুজনের বদলে দুই ইউপি সদস্যের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পৌঁছে যাবে।
নারী ইউপি সদস্য সুমিত্রা রানী দাস উপকারভোগীর নামের পাশে তার নম্বর থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঊষা রানীর মোবাইল নম্বর না থাকার কারণে আমার নম্বর দিয়েছি। তারাই বলেছে আমার নম্বর দেয়ার জন্য।
তবে ইউপি সদস্য মো. শাহজান মিয়া বলেন, অনেক যাচাই-বাছাই করে নম্বরগুলো দেওয়া হয়েছে। আমার নম্বর কোনোভাবেই যাওয়ার কথা না। আমার ওয়ার্ড থেকে নায়েব আলী নামে কারো নাম আমি দেইনি। তাছাড়া ডালপা আমার ওয়ার্ডের ভেতরও না।
ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বকুল বলেন, তালিকায় ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে কী না জানার জন্যই আমরা তালিকা প্রকাশ করেছি। তবে ইউপি সদস্যের নম্বরটি কীভাবে এসেছে সেটি বলতে পারেননি তিনি।
এ ব্যাপারে বিজয়নগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহের নিগার বলেন, 'আমাদের কাছে যে ভুল ধরা পড়েনি সেটি লোকজন আমাদের বললে সংশোধন করে দিতে পারি। স্বচ্ছতার জন্যই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি আমি এখনই দেখছি।'