মোংলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত, নিরাপদ আশ্রয়ে নৌযান
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট ও মোংলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২০ | ০৫:২৩ | আপডেট: ১৮ মে ২০২০ | ০৬:৪০
ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী মোংলা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর ও সুন্দরবন সংলগ্ন নদনদী উত্তাল থাকলেও স্বাভাবিক আবহাওয়া বিরাজ করছে মোংলার আশপাশের উপকূলীয় এলাকায়। তবে এ অঞ্চলে প্রচণ্ড গরম ও তাপদাহ বিরাজ করছে।
এদিকে স্বাভাবিক আবহাওয়ার দরুণ মোংলা বন্দরে পণ্যবোঝাই-খালাস ও পরিবহণের কাজ চলছে যথারীতি। মোংলা বন্দরে কয়লা ও ক্লিংকারবাহীসহ মোট ১১টি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে এবং স্বাভাবিক পণ্য ওঠানামার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বন্দরের হারবার বিভাগ।
বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার ফখর উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে জরুরি কন্ট্রোল রুম খুলেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া অবস্থা বুঝে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্যোগ মোকাবেলা করতে দুর্যোগ প্রস্তুতি কমিটি জেলা ও ঝুঁকিপূর্ণ চার উপকূলীয় উপজেলায় জরুরি সভা করেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে যাতে স্থানীয় লোকজন থাকতে পারে সেজন্য জেলার ৩৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৮১৫টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ২‘শ ৭৭ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি রাখতে বলা হয়েছে। মাঠে পেকে যাওয়া বোরো ধান যেন নষ্ট না হয় তাই দুর্যোগ শুরুর আগেই তা কেটে কৃষকের ঘরে তুলতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। ইতিমধ্যে কৃষি বিভাগ জেলার ৮৫ ভাগ ধান কেটে ঘরে তুলেছে। বাকি ১৫ ভাগ ধান কাল সকালের মধ্যে কাটা শেষ করতে পারবে বলে আশা তাদের।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ এই বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে আবহাওয়া বিভাগ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পূর্বাভাস জারি করেছে। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমরা দুর্যোগ মোকাবেলায় ইতিমধ্যে জরুরি সভা হয়েছে। জেলা ও উপজেলাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এই দুর্যোগে আমরা মাঠে থাকা বোরো ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে যেতে স্থানীয় লোকজন থাকতে পারে সেজন্য জেলার ৮১৫ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়াও সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্কুল ও কলেজগুলো খুলে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি রাখতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আগে ও পরবর্তীতে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তারপরও কিছু জায়গায় আমাদের সংকট ছিল। সেগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে এই ঝড়কে মোকাবেলার ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার শেখ ফকর উদ্দিন এই বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী মোংলা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি রয়েছে। বন্দরে বর্তমানে সার, ফ্লাইএ্যাশ, কয়লাবাহীসহ মোট ১১টি দেশি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। বিকেল নাগাদ আরও নতুন চারটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। বন্দরে অবস্থান নেয়া জাহাজগুলোতে পণ্য ওঠানামার কাজ অব্যাহত রয়েছে। বন্দরে একটি ঝড় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ঝড় মোকাবেলায় বন্দরের সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। চারটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৯৭টি রিপার ও হ্যান্ড রিপার এবং স্থানীয় সেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ইতিমধ্যে মাঠের ৮৫ ভাগ ধান কেটে ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছি। ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানার আগে মাঠে থাকা বাকি ১৫ ভাগ ধান কেটে ঘরে তুলতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। স্ব স্ব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা তাদের সহযোগিতা করছেন। দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই সব ধান কৃষকের ঘরে উঠে যাবে।
অন্যদিকে এখনও নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়নি। তারপরও মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক চলাচলরত বিভিন্ন নৌযান ও সুন্দরবন সংলগ্ন নদী-সাগরে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলো নিরাপদ আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। মোংলা ও পশুর নদীর পূর্ব পাড়ে কয়েকশ’ পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ ও ট্যুরিস্ট বোট নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া আশপাশের বিভিন্ন খালেও অনেক নৌযান নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় নোঙ্গর ফেলেছে।