ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হচ্ছে রামগতির ‘দ্বীপ চরের’ মানুষদের

নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হচ্ছে রামগতির ‘দ্বীপ চরের’ মানুষদের
×

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২০ | ২২:৩২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’র ছোবল থেকে রক্ষা পেতে মেঘনা উপকূলীয় লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার দু’টি ‘দ্বীপ চরের’ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হচ্ছে। চারদিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত এ চরগুলোতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধ না থাকায় উপজেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চর দু’টি থেকে আড়াই শতাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হয়েছে।

রামগতি উপজেলার চর আব্দুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, চারদিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত তার ইউনিয়নের চরগজারিয়া ও তেলিরচরে কোনো ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধ নেই। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে তাদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকে। যে কারণে উপজেলা প্রশাসন সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার উদ্যেগ নিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর থেকে কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় ইঞ্জিনচালিত তিনটি ট্রলারে করে লোকজনকে সরিয়ে এনে উপজেলা সদর আলেকজান্ডারসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ স্থানে রাখা হচ্ছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত আড়াই শতাধিক মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে এসেছেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল মোমিন জানান, উপজেলার মেঘনা নদী তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোর বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সিপিপিসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ দিকে কমলনগর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে খোলা হয়েছে সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়কালীন ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’র (সিপিপি) উপজেলা টিম লিডার মো. মাইন উদ্দিন খোকন জানান, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’র রামগতির ১০১টি ইউনিটের এক হাজার ৫১৫ জন এবং কমলনগর উপজেলার ৬৩টি ইউনিটের ৯৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন।

আরও পড়ুন

×