ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ৮৪ কর্মী বেতন পান না একবছর

কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ৮৪ কর্মী বেতন পান না একবছর
×

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল- সমকাল

কিশোরগঞ্জ অফিস

প্রকাশ: ২১ মে ২০২০ | ০২:৪০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৮৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী গত এক বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। বেতন না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই কর্মীরা। 

এ বিষয়ে নিয়োগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বলছেন, আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ আনতে হয়। টাকা ছাড় না দেওয়ায় বেতন দিতে বিলম্ব হচ্ছে। 

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের কাজ পায় মেসার্স রাইসা মেডিকেল সেন্টার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়, আয়া, কুক, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে ৮৪ জনকে নিয়োগ দেয় তারা। তবে নিয়মিত কাজ করলেও ১ বছর ধরে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। 

আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত একাধিক কর্মী জানান, একবছর ধরে বেতন না পাওয়ায় দোকান থেকে বাকিতে খেতে হচ্ছে। এখন আর দোকানিরা বাকিতে পণ্য দিতে চাচ্ছে না। অনেকেই ঘরভাড়া দিতে পারছি না। ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ের বেতন বাকি পড়েছে। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে আমাদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা। এই টাকা দিয়ে আমাদের কিছুই হবে না। আমরা আমাদের বকেয়া বেতন চাই। 

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. রফিকুল হক টিটু বলেন, মেডিকেল কলেজগুলোর বাজেটে আউটসোর্সিং কর্মীদের বরাদ্দ দেওয়া থাকে, তাই তাদের বেতন দিতে সমস্যা হয় না। কিন্তু জেনারেল হাসপাতালের বরাদ্দ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আনতে হয়। সেখান থেকে অর্থ ছাড় না দেওয়ায় বেতনও পাচ্ছে না এই কর্মীরা। 

জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের সভাপতি ডা. দীন মোহাম্মদ বলেন, আউটসোর্সিং কর্মচারিদের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। ধারণা করছি, এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার গাফিলতি রয়েছে। তাছাড়া বরাদ্দ না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। 

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হিবরুল বারী জানান, তিনি এক সপ্তাহ আগে যোগদান করেছেন। যোগদানের পর তিনি জানতে পারেন, এক বছর ধরে আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতনভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, এই কর্মীদের বেতনভাতা পরিশোধের জন্য ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি শিগগিরই তাদের বেতনভাতা পরিশোধ করতে পারব।

আরও পড়ুন

×