আম্পানে হাতিয়ায় ঘরবাড়ি, বেড়িবাঁধ ও মাছের খামারে ব্যাপক ক্ষতি
সুপার সাইক্লোন আম্পান
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২০ | ০৩:৩৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
সুপার সাইক্লোন আম্পানে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় কাঁচা ঘরবাড়ি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ফসলি জমি ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে হাতিয়ার ৪ টি ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে ২ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, চরঈশ্বর, নলচিরা ও শুখচর ইউনিয়নে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি ঢুকে অন্তত ৪০টি মাছের ঘের তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে মাছ। ৫ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ উপজেলায় কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ায় প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাশেদ উদ্দীন জানান, বেড়িবাধের বাইরে ও ভেতরে শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে।
নলচিরা ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বাবলু জানান, তার ইউনিয়নের ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বুধবার দুপুরে অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে ৩টি গ্রাম তলিয়ে বেশকিছু ঘরবাড়ি ভেসে গেছে।
নিঝুমদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান মেহরাজ উদ্দীন জানান, তার ইউনিয়নে ৮-১০ ফুট জলোচ্ছ্বাস এসে ৭টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। অনেক কাঁচা পাকা রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। শতাধিক পুকুর ও মৎস্য খামার তলিয়ে পানির স্রোতে মাছ ভেসে গেছে। এতে অনেক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন বাসিন্দারা।
হাতিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, আম্পানের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় জোয়ারের পানি ঢুকেছে। উপজেলার কোথাও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষজন নিজ বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ শুরু করেছে।