সরকারি ব্রিজের লোহা বেচে দেওয়া সেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
বেলায়েত হোসেন বুলু
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২০ | ১১:০৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
পিরোজপুরের নাজিরপুরে সরকারি লোহার ব্রিজের মালামাল অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগে বেলায়েত হোসেন বুলু নামে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে নাজিরপুর থানায় এ মামলা হয়। অভিযুক্ত বুলু উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
মামলার বাদী উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল গাফ্ফার। ঘটনার পর থেকে ওই চেয়ারম্যান আত্মগোপনে রয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের মধ্য বানিয়ারী গ্রামে অজয় মন্ডলের ঘাটে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৬ ফুট একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ওই স্থানে উপজেলা পরিষদের করা একটি লোহার ব্রিজ স্থাপন করা ছিলো। ওই ব্রিজের লোহার ৪১ টি ভীম উপজেলা পরিষদের কোনও অনুমতি ছাড়াই আত্মসাত করার উদ্দেশে চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বুলু গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গহরডাঙ্গা গ্রামের মৃত সিরাজ শেখের ছেলে ইস্রাফিল শেখের কাছে বিক্রি করেন।
শুক্রবার ক্রেতা ইস্রাফিল একটি টমটমে করে ওই মালামাল নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার পথে স্থানীরা টমটমসহ ওই মালামাল আটক করে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানান। এ সংবাদ পেয়ে ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মিয়া ও মাটিভাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে হাজির হন।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বুলুর সামনেই ইস্রফিল মালামালগুলো চেয়ারম্যানের কাছ থেকে করার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। তবে প্রশাসনের জিজ্ঞাসাবাদে ওই মালামাল বিক্রির ব্যাপারে কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি চেয়ারম্যান। এ সময় পুলিশ ওই মালামাল গুলো জব্দ করে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মিয়া জানান, এসব মালামাল ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। তবে চেয়াম্যান সংরক্ষণের নিয়ম-কানুন মানেননি। তাছাড়া তিনি উপজেলা নিলাম কমিটির অনুমোদন ছাড়াই আত্মসাতের উদ্দেশে অবৈধভাবে বিক্রি করেছেন।
নাজিরপুর থানার ওসি মো. মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, টমটমসহ মালামালগুলো পুলিশ জব্দ করেছে। তাছাড়া এ ঘটনায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল গাফ্ফারের লিখিত অভিযোগের ভিক্তিকে ওই চেয়াম্যানের বিরুদ্ধে থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই চেয়ারম্যান আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান জানান, সরকারি কোনও মালামাল উপজেলা পরিষদের নিলাম কমিটির অনুমোদন ছাড়া বিক্রি করার সুযোগ নাই। তবে চেয়ারম্যান নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে আত্মসাত করার উদ্দেশে মালামালগুলো বিক্রি করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই এ ঘটনায় সরকারের পক্ষে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।