টানা বৃষ্টিতে ধসে পড়ল গোকর্ণ নবাব বাড়ির একাংশ
ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের গোকর্ণ নবাব বাড়ি- সমকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ মে ২০২০ | ১৪:০৭
প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো গোকর্ণ নবাব বাড়িটির একাংশ ধসে পড়েছে। গত এক সপ্তাহের বৃষ্টিপাতে ভবনটির সামনের অংশে ফাটল দেখা দিয়েছিল। এর ওপর গতকাল শনিবার ভারি বৃষ্টি হওয়ায় ধসে পড়ে অবহেলার শিকার এ ঐতিহ্যবাহী বাড়িটির সামনের দক্ষিণ দিকের পুরো অংশ। নবার বাড়ির বংশধর সৈয়দ রিয়াজ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী বাড়িটি পরিদর্শন করেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক ছোয়াব আহমেদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নওশাদ উল্লাহ, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরসহ এলাকার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরাও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাতেগোনা ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ গ্রামের নবাব বাড়ি অন্যতম। অবিভক্ত ভারতবর্ষের উজ্জ্বল নক্ষত্র নবাব সৈয়দ শামসুল হুদার কারুকার্যখচিত প্রাসাদের সৌন্দর্য শুরু থেকেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পরে তার ছোট ভাই ব্যারিস্টার মাসিহ পারিবারিক এ ভবনের তিন তলার ডিজাইন করে বাড়ির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তোলেন। অনেক দূর থেকেই এ বাড়ি সবার নজর কাড়ে। এর ভেতরে রয়েছে বাংলো টাইপের দালান ও রংমহল। তবে স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, বাড়িটির বাইরের অংশের দ্বিতীয় তলার ছাদ খসে পড়েছে বহুদিন আগে। ভেতরের কাঠের পাটাতন কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে। বাড়িটির পলেস্তারাও খসে পড়ার পথে। তার পরও বাড়িটির অদ্ভুত এক আকর্ষণ রয়েছে।
ভবনটির সঠিক ইতিহাস জানা না গেলেও এ বাড়িতেই জন্ম নেন ক্ষণজন্মা রাজনীতিবিদ সৈয়দ শামসুল হুদা। তিনি কলকাতা মাদ্রাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ওকালতি পাস করার পর তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। তিনি ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বিতীয় মুসলিম বিচারপতি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ১৯০২ সালে 'টেগোর প্রফেসর অব ল' পদ প্রদান করে। ১৯১০ সালে তিনি সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি হন। নবাব শামসুল হুদা নিঃসন্তান হলেও তার দাদা ও দাদার ভাইদের সূত্রে সৈয়দ বা তার বংশের ধারা গোকর্ণে এখনও আছে।
ভবনটি সম্পর্কে গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও গোকর্ণেরই বাসিন্দা সৈয়দ নওশাদ উল্লাহ বলেন, দ্রুত নবাব বাড়িটির পুরোনো ডিজাইন অটুট রেখে সংস্কার করা প্রয়োজন। একই মন্তব্য করে গোকর্ণের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রভাষক ছোয়াব আহমেদ বাড়িটি সংস্কারের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী বলেন, খবর পেয়ে নবাব বাড়ি পরিদর্শন করেছি। নবাব পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিলে এ ভবনকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আসিফ জানান, ভবনটির আশপাশে যাদের বাড়ি আছে, তারা আতঙ্কে আছে। কারণ পুরো বাড়িটি ধসে পড়লে আশপাশের অনেক বাড়িরই ক্ষতি হবে। তিনি সরকারের কাছে বাড়িটি সংস্কারের জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তা না হলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।