প্রভাবশালী প্রতিবেশীর বেড়ায় অবরুদ্ধ ৭ পরিবার
এভাবেই বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে ৭টি পরিবারকে -সমকাল
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২০ | ০৬:০৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে প্রভাবশালী প্রতিবেশীর দেওয়া বেড়ায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ৭টি পরিবার। বাড়ির সামনে তারের শক্ত বেড়া দেওয়ায় যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে তাদের। ফলে ক্ষেতের ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না তারা।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে আবুল হোসেন নামে ব্যক্তি বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের ৬ সদস্যের একটি টিম রাতভর বৈঠক করেও বেড়া অপসারণে ব্যর্থ হয়েছেন।
উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের রড় হরিপুর শাহপাড়া গ্রামে সরেজমিনে তেখা যায়, মিজানুর রহমান ও আবুবক্কর সিদ্দিক মিলে গ্রামের শতবর্ষী রাস্তাটির মাঝ বরাবর ৮০ফুট দীর্ঘ একটি তারের বেড়া লাগিয়ে ৭ পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে ওই গ্রামের বাক প্রতিবন্ধি এরশাদ আলী, আবুল হোসেন, মাহবুবুর রহমান. মোক্তার হোসেন, আজাহার আলী মমিনুল ইসলাম ও মমেনা খাতুনের পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তারা কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। এমনকি কৃষি ফসল ঘরে তুলতে ও গবাদী পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সেই সঙ্গে রাস্তার মাঝে অর্ধশত বালির বস্তা ফেলে ৭টি পরিবারে পানি নিষ্কাশনের পথও রুদ্ধ করা হয়েছে।
গ্রামের প্রবীণ নারী রেজিয়া বেগম (৮০) বলেন, গ্রামের ভিতরের শতবছরের পুরোনো এই রাস্তা দিয়ে গ্রামবাসী চলাচল করে আসছে। তাছাড়াও অন্য গ্রামের লোকজনও গ্রামের ভিতরের রাস্তাটি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে। প্রায় ২ সপ্তাহ আগে রাস্তার মাঝ বরাবর বেড়া দিয়ে রাস্তাটি দখলে নিয়েছেন মিজানুর রহমান ও আবুবক্কর। এতে ৭টি পরিবার আর রাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। অবশিষ্ট গ্রামবাসীর জন্য মাত্র ৪ফুট রাস্তা দেওয়া হয়েছে, সেটাও ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না পরিবারগুলোকে।
অবরুদ্ধের শিকার কাঠ মিস্ত্রী আবুল হোসেন বলেন, পারিবারিক কলোহের কারণে বাড়ির সামনে বেড়া দিয়ে ৭টি পরিবারের রাস্তায় যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিবেশি মিজানুর রহমান ও আবু বক্কর সিদ্দিক। শুধু বেড়াই নয় বালির বস্তা ফেলে পানি নিষ্কাশনের পথ পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে। কৃষি ফসলসহ গবাদীপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ৬ জন ইউপি সদস্যকে বিকেলে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ছিলেন। আমরা মিজানুর রহমান ও আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক করেও বেড়া অপসারণে ব্যর্থ হয়েছি। বিষয়টি চেয়ারম্যনকে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে বেড়া দিয়ে রাস্তা অবরোধকারী মিজানুর রহমান বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহার হয়ে থাকলেও রাস্তার কিছু অংশ আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। আমি সাধারণ গ্রামবাসীদের জন্য কিছু অংশ চলাচলের জন্য রেখে দিয়েছি। কিন্তু ওই ৭ পরিবারকে আমি রাস্তায় উঠতে দেব না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ মিথুন মুন্নী বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যানকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।