ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রলীগের ৭০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রলীগের ৭০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা
×

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২০ | ০৯:০১

দিনাজপুরে সরকারদলীয় ২ নেতাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে থানার সামনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের প্রায় ৭০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক জাহিরুল ইসলাম বাদি হয়ে ৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরোও ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলা করায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২১।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২ নেতাকে আটকের পর তাদের ছাড়িয়ে নিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা থানার সামনে বিক্ষোভ করে ও এক পর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে ১৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

দিনাজপুর কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার  ২ নেতাকে আদালতে হাজির করে পৃথকভাবে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক রজবের বিরুদ্ধে ২ ছাত্রকে হত্যা ও বোচাগঞ্জে ছাত্রদল নেতাকে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ৬টি মামলা রয়েছে। আর সুজনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও জমিদখলসহ ৫টি মামলা রয়েছে। হাবিপ্রবি’র দুই ছাত্রকে হত্যার ঘটনার মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ওই ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার এলাকায় নিজ মালিকানাধীন হোটেল আফিয়া ইন্টারন্যাশনাল থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজব ও বিকেল ৪টায় শহরের সুইহারী আশ্রম পাড়ার নিজ বাসা থেকে দিনাজপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সুজনকে আটক করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় তাদের মুক্তির দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দিনাজপুর কোতয়ালী থানা ঘেরাও করেন। এসময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে রাত ৮ টার দিকে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ সশস্ত্র হামলা চালায়। এসময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলি করে এবং ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের মারধর করে। এর জবাবে অপর একটি গ্রুপ প্রতিরোধ গড়ে তুললে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া শহীদ নুর হোসেন হলে ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহত জাকারিয়া দিনাজপুর শহরের গুড়গোলা এলাকার মোস্তাকের ছেলে ও মাহমুদুল হাসান মিল্টন নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেরভেরী গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে। খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দু’টি মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নিহত ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া ও মাহমুদুল হাসান মিল্টনের বাবা-মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছেলেহারা দুই পরিবারের বাবা-মাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিকভাবে সহায়তাসহ সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন

×