ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

শিল্প কারখানা মালিকরা কর্মস্থলে যেতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ তাদের

সাধারণ ছুটিতেও কর্মস্থলে যাচ্ছেন রেড জোনের বাসিন্দারা

সাধারণ ছুটিতেও কর্মস্থলে যাচ্ছেন রেড জোনের বাসিন্দারা
×

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২০ | ০৯:২৭ | আপডেট: ২২ জুন ২০২০ | ১০:১৬

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এক সপ্তাহ ধরে লকডাউন চলছে চট্টগ্রামের রেড জোন উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে। লকডাউন কার্যকরে প্রশাসন চেষ্টা করলেও লোকজনকে রেড জোন এলাকায় অবরুদ্ধ করে রাখতে পারছে না। রেডজোন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর সোমবারও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কর্মস্থলে গেছেন লোকজন। 

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শিল্প কারখানার মালিকরা রেডজোন এলাকার কর্মচারীদের কর্মস্থলে আসতে বাধ্য করছেন। চাকরি হারানোর ভয়ে লোকজন লকডাউন উপেক্ষা করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, ‘লকডাউন কার্যকরে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানার মালিকদের অসহযোগিতার কারণে পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও কোন কেউ যদি আমাদের কাছে এসে অভিযোগ করেন তাকে কর্মস্থলে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে তাহলে আমরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি প্রশাসনকে জানাচ্ছি। যাতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।’ 

তিনি বলেন, ‘রেড জোন এলাকায় ছয়টি পোশাক কারখানা আছে। তাদের নিয়েও বেকায়দায় আছি। প্রতিদিন তাদের নিয়ে লুকোচুরি খেলতে হচ্ছে। তারা লকডাউন এলাকার বাইরের শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিয়ে আসছেন। আমরা গিয়ে বন্ধ করে দিলে, পরদিন আবার শ্রমিকদের কর্মস্থলে আসতে বাধ্য করছেন।’ 

গত ১৬ জুন মধ্যরাত থেকে এ ওয়ার্ডে লকডাউন শুরু হয়। গত রোববার রেডজোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এরপরও লকডাউন এলাকার লোক যেমন বাইরে গেছেন, তেমনি অনেকে ভেতরে প্রবেশ করেছেন। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে শত শত লোক কর্মস্থলের উদ্দেশে বেরিয়ে গেছেন। লকডাউন এলাকার পোশাক কারখানায় বাইরে থেকে কর্মীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। লকডাউনের পর থেকে এই ওয়ার্ডের ২০টি প্রবেশপথের মধ্যে ১৪টি বাঁশ দিয়ে অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সোমবারও প্রবেশপথগুলোর মধ্যে কর্নেল জোন্স রোড, ঈশান মহাজন রোড, মোস্তফা হাকিম কলেজ রোড, সাগরিকা বিটেক রোড, কৈবল্যধাম রোড, নিউ মনছুরাবাদ রোড, সিডিএ আবাসিক রোড, সাগরিকা আলিফ রোডে বাঁশের ব্যারিকেডের টপকে ও ফাঁক ফোকর দিয়ে লোকজনকে বের হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বের হয়ে যায়। লকডাউন এলাকার লোকজন সাধারণ ছুটির আওতায় থাকার ঘোষণা থাকলেও কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে তাদের। যেসব প্রবেশ পথে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন সেসব পথে বের হতে ও ঢুকতে কিছুটা কড়াকড়ি দেখা গেছে। যেসব পথে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্বপালন করছেন সেখানে লোকজন তাদের মানছেন না। বাধা উপেক্ষা করে বেরিয়ে যাচ্ছেন। সিটি গেইট এলাকার একটি কারখানার কর্মী সমকালকে বলেন, ‘প্রশাসন বলছে ছুটি। কিন্তু কারখানা থেকে বলছে না গেলে বেতন দিবে না। পেটের দায়েতো কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (বিশেষ শাখা) আবদুল ওয়ারীশ সমকালকে বলেন, ‘সাধারণ ছুটির ঘোষণার বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। কিন্তু এটা কিভাবে কার্যকর করা হবে তা নিয়ে কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। নির্দেশনা পেলে যেভাবে বলে সেভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।’

আরও পড়ুন

×