ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুকুর ভরাট করল আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ

পুকুর ভরাট করল আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ
×

আনোয়ার হোসেন, আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ১৩:৩২

দেশের ব্যতিক্রমী, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আশুগঞ্জ-পলাশ এগ্রো-ইরিগেশন ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের প্রধান ওয়াটার কুলিং রিজার্ভার পুকুরের বিশাল অংশ সম্প্রতি ভরাট করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) আশুগঞ্জ কর্তৃপক্ষ। জায়গাটি তাদের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে পুকুরটিতে ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিপিডিবির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এতে আগামী বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাছাড়া এ বিষয়ে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ সংশ্নিষ্ট বিভাগকে চিঠিও দিয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে ব্যক্তি উদ্যোগে এবং ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছর থেকে বিএডিসির তত্ত্বাবধানে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহূত বর্জ্যপানি একটি রেগুলেটরের মাধ্যমে গতিপথ পরিবর্তন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, সরাইল, নবীনগর, বিজয়নগর এবং সদর উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে নামমাত্র মূল্যে সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন আশুগঞ্জ-পলাশ এগ্রো-ইরিগেশন সেচ প্রকল্পটি দেশের ব্যতিক্রমী, জ্বালানি সাশ্রয়ী, কৃষিবান্ধব ও পরিবেশ রক্ষাকারী প্রকল্প। এ প্রকল্পে শুরুতে সেচের পানি ধরে রাখতে ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গত গরম পানি ঠান্ডা করতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ রেলগেট এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের এই পুকুরকে পানির প্রধান কুলিং রিজার্ভার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সেচ প্রকল্পের কুলিং রিজার্ভার পুকুরটি ভরাট করে ফেলেছে। তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে পানি নিস্কাশনের জন্য ছোট খাল বিদ্যমান রয়েছে।

আশুগঞ্জ-পলাশ এগ্রো-ইরিগেশন সেচ প্রকল্পের পিডি ওবায়েদ হোসেন বলেন, এ প্রকল্পে নদীর পানি ব্যবহার করায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ পড়ে না। এতে উৎপাদনও ভালো হয়। এটি দেশের ব্যতিক্রমী সেচ প্রকল্প। দেশের কোথাও এত কম খরচে সেচের সুবিধা নেই। এ বিষয়টি অবগত করে বিদ্যুৎ বিভাগকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। এসব সুরাহা না হলে ৩১ হাজার কৃষক নামমাত্র মূল্যে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ নজরুল ও উপজেলা শিক্ষা উন্নয়ন পরিবেশের সভাপতি অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, উন্নয়ন সবার কাম্য, করতেও হবে। তবে জনস্বার্থ ও পরিবেশ নষ্ট করা উচিত নয়।

আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজুল হক বলেন, বিএডিসির ব্যবহূত রিজার্ভার পুকুরটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব জমি। এ স্থানে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের অফিস করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ওই জায়গা ভরাট করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনকে দেওয়া বিএডিসি কর্তৃপক্ষের চিঠির অনুলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত বলেন, এ বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগকে সমন্বয়সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পুকুর ভরাট বিষয়ে একমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছাড়া জেলা অফিস অনুমোদন দিতে পারে না বলেও তিনি জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান এ বিষয়টি অবগত রয়েছেন জানিয়ে বলেন, বিষয়টি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে দেখার জন্য ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও নাজিমুল হায়দার বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী যাতে উন্নয়ন ও সেচ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকে এবং পরিবেশের ক্ষতি না হয় সে অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হবে।

আরও পড়ুন

×