স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় অজানা রোগে আক্রান্ত শিশু ফাতেমা
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০১৯ | ১১:৫৫
বয়স মাত্র ছয় বছর। এ বয়সে শিশু ফাতেমার হেসেখেলে বেড়ানোর কথা। কিন্তু তাকে ঘরকুনো করে রেখেছে অজানা এক রোগ। নাম না জানা এই রোগ তার শৈশবের সমস্ত আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। ফাতেমার ডান হাতের পুরো অংশজুড়ে কালো ছোপ ছোপ দাগে ভরা, কোথাও কোথাও চামড়া কুঁচকে গেছে, হাতের দুয়েক স্থানে ঘা ও ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
ঈশ্বরদীর সাঁড়াগোপালপুর ফরাজিপাড়ার আজাদুল হকের মেয়ে ফাতেমা। তার এই রোগের আদৌ কোনো চিকিৎসা আছে কি-না জানে না শিশুটির বাবা-মা। আর থাকলেও সে পর্যন্ত পৌঁছানোর নূ্যনতম সামর্থ্য নেই হতদরিদ্র এই পরিবারের। এমন অবস্থায় অসহায়ত্ব আর দুশ্চিন্তার কালো মেঘ জেঁকে বসেছে এই পরিবারের ওপর। এদিকে শিশুটির স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতিও সইতে পারছে না তার বাবা-মা।
প্রতিবেশী মাসুদ রানা জানান, ফাতেমার বাবা নিজেও মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন। এজন্য পেশায় দিনমজুর আজাদুলকে বেশিরভাগ সময়ই বেকার থাকতে হয়। অন্যদিকে শিশুটির মা শ্রবণপ্রতিবন্ধী। তিনি পাড়ার বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের জন্য দু'মুঠো খাবার জোগাড় করেন। প্রতিবন্ধী বাবা-মায়ের যৎসামান্য আয়ের ওপর নির্ভরশীল এই পরিবারের সদস্যরা কখনও খেয়ে আবার কখনও না খেয়ে দিন কাটান।
আজাদুল জানান, জন্মের পর থেকেই ফাতেমার হাতটি এ রকম ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার হাতের সমস্যাটিও বাড়তে থাকে। তাকে আশপাশের কবিরাজ ও স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও হাতের অবস্থা অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, শিশুটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখলে চিকিৎসার মাধ্যমে হাতটি স্বাভাবিক করে তোলা সম্ভব হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও অর্থের ব্যাপার আছে।
এলাকাবাসী জানান, হতদরিদ্র ওই পরিবারের অসহায়ত্বের দিকে তাকিয়ে যদি কেউ শিশুটিকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তবেই তার চিকিৎসা সম্ভব, নতুবা তাকে এই অজানা রোগ বয়ে বেড়াতে হবে জীবনভর।