জাফলং-গোয়াইনঘাট সড়কের ৫ কিলোমিটার খানাখন্দে ভরা
খানাখন্দ ভরা গোয়াইনঘাট-জাফলং সড়ক
জাকির হোসেন, গোয়াইনঘাট (সিলেট)
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২০ | ০১:৩৭
দেশের বড় বড় রাস্তাঘাট ও ব্রিজ কালভার্টসহ অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়নে যে পরিমাণ পাথর ব্যবহার করা হয় তার প্রায় সিংহভাগ চাহিদাই পূরণ হয় সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলং ও বিছনাকান্দি কোয়ারির পাথর দিয়ে। অথচ জাফলং থেকে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াতের একটি সড়কের ৫ কিলোমিটার খানাখন্দে ভরা।
সংস্কারবিহীন বেহাল এ সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কোন রকমে যানবাহন চলাচল করে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি দুই দফা বন্যা আর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পাথর রাজ্যের এ সড়কটিতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, পর্যটন কেন্দ্র জাফলং থেকে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। যার মধ্যে রাধানগর বাজার পাড়ি দিয়ে ছোটখেল এলাকা থেকে তিতারাই পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক। এই সড়কটি দিয়ে পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ৪৪টি গ্রামের লোকজন দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। এছাড়াও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষজনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পর্যটকদের একটি অংশও এই সড়ক ধরেই যাতায়াত করেন।
২০০৭ সালে সড়কটির পুনরায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর বছর না ঘুরতেই এর বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং উঠে যায়। এছাড়াও ২০১২ সালের ভয়াল বন্যায় ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন বেহাল দশা থাকার পর ২০১৭ সালে ডলি কন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির সংস্কার কাজ করে। কিন্তু সংস্কারের ছয় মাস না যেতেই সড়কটি আবার পূর্বের চেহারায় ফিরে যায়।
এরপর গত কয়েকদিন আগের বন্যায় রাস্তাটি ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি ব্রিজের সংযোগ সড়কের মাটি ধসে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গর্ত আর খানাখন্দ মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে কিছু যানবাহন চলাচল করছে। এতে করে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী রাসেন্দ্র চন্দ্র দেব জানান, বরাদ্দ না থাকায় সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ করা যাচ্ছে না। সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে এর পূর্ণাঙ্গ সংস্কারকাজ করা হবে। তবে সড়কটি দিয়ে যাতে আপাতত যানবাহন চলাচল করতে পারে সে লক্ষ্যে যতটুকু সম্ভব মেরামতের চেষ্টা করছি। খুব শিগগির এর কাজ শুরু হবে।
গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুস সাকিব জানান, এলজিইডির জরুরি মেরামত খাত থেকে সড়কটিকে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সড়কটি মেরামত করে যানবাহন চলাচলের জন্য উপযোগী করে তোলা হবে।