ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

করোনা সংকটে বাগেরহাটে কোরবানির গরু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

করোনা সংকটে বাগেরহাটে কোরবানির গরু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা
×

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২০ | ০২:৪৩

করোনা সংকটে কোরবানির গরুর চাহিদা ও দাম কমার শঙ্কায় রয়েছেন বাগেরহাটের খামারিরা। তারা বলছেন, গরু ও খামারের সংখ্যা বেড়েছে, সে তুলনায় বাড়েনি গরুর চাহিদা। করোনার প্রভাবে বেড়েছে গো-খাদ্যের দাম। বাগেরহাটে কোরবানির জন্য যে সংখ্যক গবাদি পশুর প্রয়োজন হবে, খামারগুলোতে গরু তার চেয়ে বেশি। আর করোনা সংক্রমণের ভয়ে হাটে ক্রেতা কমবে। এ অবস্থায় গরু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা।  

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কোরবানির জন্য বাগেরহাট জেলায় ৪৩ হাজার ৮২৫টি গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু ৩ হাজার ৭২৩, মহিষ ১ হাজার ১৩, ছাগল ১০ হাজার ৭৮৬, ভেড়া ১ হাজার ১৫৩ এবং ১৫০টি অন্যান্য পশু রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে এবারের কোরবানির ঈদের বাজার তেমন ভাল যাবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। কোরবানির হাটে গবাদি পশুর দাম কম থাকলে খামারিদের সাথে মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়বে। 

কোরবানির আগ মুহূর্তের হাটের জন্য অপেক্ষা না করে এখনই গবাদি পশু বিক্রির জন্য পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান।

বাগেরহাট সদর উপজেলার খামারি সুমন বলেন, প্রতি বছর ৪-৫ টা গরু পালন করি। সেগুলো বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সারা বছর চলে। এ বছর ৬টা গরু আছে। যা স্বাভাবিক বাজার থাকলে ৫ লাখ টাকার উপরে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু ব্যবসায়ীরা ৬টি গরু তিন লাখ টাকার বেশি বলে না। করোনা পরিস্থিতি এ রকম থাকলে এবং গরুর দাম না বাড়লে এবার মাঠে মারা যাবো। 

একাধিক খামারিরা জানান, এক মাস আগে এক বস্তা (৩৭ কেজি) গমের ভূসির দাম ছিল ১ হাজার ১০০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। শুধু গমের ভূসি নয়, সব গো-খাদ্যের দাম গড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে। গরুর খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ও ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ার আশঙ্কায় চরম হতাশায় রয়েছেন বাগেরহাটের খামারিরা। 

গরু ব্যবসায়ী লতিফ শেখ ও সালাম বলেন, সারা বছরই আমরা গরু কেনাবেচার মধ্যে থাকি। কোরবানির আগের কিছু দিন সব থেকে বেশি ব্যবসা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে গত তিন মাস ধরে নিয়মিত হাট বসতে পারছে না। আর কোরবানির আগ মুহূর্তেও হাট বসার সম্ভাবনাও খুবই কম। এই অবস্থায় বাজার খুবই মন্দা থাকবে। কোনোভাবেই ভাল ব্যবসা আশা করা যায় না। তবে সরকারিভাবে যদি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে গবাদি পশুর হাটের ব্যবস্থা করে তাহলে ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ী সবাই উপকৃত হবে। তবে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও  যেসব হাটে গরুর হাট বসছে সেসব হাটে পশুর দাম তুলনামূলক খুবই কম।

বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির বাজার কিছুটা মন্দা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বাজার ভালো আছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্থ্যাৎ যেসব জায়গায় বেশি পশু বিক্রি হয়, সেসব এলাকায় সামাজিক দূরত্ব মেনে পশুর হাট বসানোর চিন্তা রয়েছে। অনলাইনেও পশু বিক্রির জন্য খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোরবানির আগ মুহূর্তের হাটের জন্য অপেক্ষা না করে এখন থেকেই গবাদি পশু বিক্রির জন্য পরামর্শ দিয়েছি। কিছু কিছু খামারি তাদের পশু বিক্রিও শুরু করেছে। তারা ভালো দামও পাচ্ছে।

আরও পড়ুন

×