ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুয়েটে ছাত্র-সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি

কুয়েটে ছাত্র-সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি
×

ছাত্রছাত্রীরা হল ছাড়ছেন -সমকাল

 খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০১৯ | ০৭:৫৫ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:৫৭

দুটি হলের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের পর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শনিবার হল ছেড়েছে সাতটি হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে স্বাভাবিক রয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, কুয়েটে শুক্রবার বিকেলে আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টে এমএ রশীদ হল ও অমর একুশে হল মুখোমুখি হয়। খেলা চলাকালে অমর একুশে হলের ছাত্ররা একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রেফারি শাহ আলমকে মারধর করেন। এ সময় তার সহকর্মী আকবর এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। ফজলুল হক হলের ছাত্ররা মোবাইলে মারধরের দৃশ্য ভিডিও করে। তখন অমর একুশে হলের ছাত্রদের সঙ্গে ফজলুল হক হলের ছাত্রদের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে রাতে ফজলুল হক হল ও অমর একুশে হলের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছাত্ররা উভয় হলের বেশ কিছু জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে দুই হলের পাঁচ-ছয়জন আহত হন।

সংঘর্ষের ঘটনায় শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের ছয়টি ছাত্র হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এ ছাড়া শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্রদের ছয়টি ও রোববার সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রীদের একমাত্র হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাতেই ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সকালে কুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রছাত্রীরা হল ছাড়ছেন। তারা বলেন, হঠাৎ হলত্যাগের নির্দেশে তারা বিপাকে পড়েছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কারণে অনেকেই বাস-ট্রেনের টিকিট পাচ্ছেন না।

কুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. শিবেন্দ্র শেখর শিকদার সমকালকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই কর্তৃপক্ষকে কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে। তিনি জানান, কুয়েট ক্যাম্পাস খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার উপকেন্দ্র ছিল। শনিবার সুষ্ঠুভাবে তাদের ভর্তি পরীক্ষা এই ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকেল ৪টায় কুয়েটের রেজিস্ট্রার জি এম শহীদুল আলম জানান, ঘটনা তদন্তে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুন্নবী মোল্লাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, তদন্তে যেসব ছাত্রের অভিযোগ প্রমাণ হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন সমকালকে বলেন, ফুটবল খেলা নিয়ে এমএ রশীদ হল ও অমর একুশে হলের ছাত্রদের ঝামেলা হয়। কিন্তু অমর একুশে হলের ছাত্রদের সঙ্গে ফজলুল হক হলের ছাত্রদের কেন সংঘর্ষ হলো- তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। তিনি জানান, পরিস্থিতি শান্ত হলে একাডেমিক কার্যক্রম আবার চালু হবে।

খানজাহান আলী থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আরও পড়ুন

×