পূর্বধলায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ও অসহায় মানুষের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২০ | ০৬:৩২
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় ও এলাকার অসহায় মানুষের বসতভিটা এবং জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মজিদ খানের বিরুদ্ধে। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ওই গ্রামের কানন বালা দেবী, দেবাশীষ মজুমদার সুমন, লিটন দেবনাথ, নিলয় পন্ডিত, ইয়ারন গ্রামের অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম খান, শ্রীপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবিবসহ ১৯৩ জন সোমবার নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি, নেত্রকোনা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, জেলার পূর্বধলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল, সাহোদকোনা গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন ও কৃষ্ণজীবনপুর গ্রামের মোনায়েম খান সরকার দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকার কিছু সন্ত্রাসী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শাহবাজপুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতভিটা ও সম্পত্তি দখল করছেন। এরই মধ্যে শাহবাজপুর গ্রামের মৃত কাশিনাথ পন্ডিতের মেয়ে কানন বালা দেবী ও বাসনা দেবীর ৫০ লাখ টাকা মূল্যের এক একর পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে নেন আবদুল মজিদ খান। একই গ্রামের মোহাম্মদ ও আহাম্মদ ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৪০ শতাংশ ভূমি, একই গ্রামের চিন্তা রানীর প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের পৌনে চার শতাংশ, মৃত নরেন্দ্র মাস্টারের দশ লাখ টাকা মূল্যের বসতভিটা দখল করেছেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। নরেন্দ্র মাস্টারের বিধবা স্ত্রী বসতবাড়ি হারিয়ে নেত্রকোনা পৌর এলাকায় বসবাস করছেন।
তবে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মজিদ খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ১৯৯৬ সালে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। বিষয়টি এলাকার মুরুব্বিরা অনেকেই জানেন। কারও সম্পত্তি আমি জোর করে দখল করিনি। আমার বিরুদ্ধে স্থানীয় কিছুলোক অপবাদ দিয়ে বেড়াচ্ছে।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি এখনও আমার কাছে পৌঁছেনি। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তবে এ ব্যাপারে অভিযোগকারীদের মামলা করতে হবে।