লাকসামে সম্পত্তির বিরোধে টেটাবিদ্ধ করে খুন
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২০ | ১০:৫৭
কুমিল্লার লাকসামে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘুমন্ত এক ব্যক্তিকে টেটাবিদ্ধ করে খুন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার শ্রীয়াং গ্রামের এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন।
নিহত মোহাম্মদ হোসেন (৩৬) শ্রীয়াং গ্রামের ছাড়াবাড়ীর ইউনুসের ছেলে। নিহতের চাচাতো ভাই সাইফুল বাদী হয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে লাকসাম থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি নিয়ে উপজেলার মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের শ্রীয়াং গ্রামে আবু তাহের মরন ও মনির হোসেন মনুর দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে ভোরে অজ্ঞাত ৩৫ থেকে ৪০জন ব্যক্তি মনির হোসেন মনুর বাড়িসহ ৫টি বসতবাড়িতে থাকা ঘুমন্ত লোকজনের ওপর হামলা চালায়। টেটা, বল্লম, চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িঘরে হামলা ভাংচর, লুটপাট সহ গাছ-পালা কেটে আতংক সৃষ্টি করা হয়।
এসময় মোহাম্মদ হোসেন ঘর থেকে বাইরে আসলে তার বুকের মধ্যে টেটা বিদ্ধ করে হামলাকারীরা। তার চিৎকারে বাড়ির স্বজনরা এগিয়ে আসলে তাদেরকে পিটিয়ে আহত করে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনাস্থলেই মোহাম্মদ হোসেনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা আহতদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টেটাবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মামলার বাদী নিহত মোহাম্মদ হোসেনের চাচাতো ভাই সাইফুল বলেন, সম্পত্তির বিরোধে জেরে আবু তাহের মনাদের সাথে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আবু তাহের মনার পক্ষে রাশেদ ও সাইফুল সহ কয়েকজন লোক দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর করে আমার ভাইয়ের বুকের মধ্য নির্মমভাবে টেটার আঘাতে হত্যা করে।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য শহিদ উল্লাহ চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। তাদের এ সমস্যা দীর্ঘ দিনের। একাদিকবার বিভিন্ন উচ্চ মহলের লোকজন এ সমস্যা সমাধানে বসা হলেও তাদের বিরোধ সমাধান সম্ভব হয়নি।একাধিক হামলা মামলা ও হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষের উপর আজকের হামলা পূর্ব পরিকল্পিত এবং দুঃখজনক।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দীন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মোহাম্মদ হোসেনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।