স্কুল পুনঃস্থাপন নিয়ে দ্বন্দ্ব, অসন্তোষ
দেওয়ানগঞ্জে ছাপরাঘর তুলে নদীভাঙনের শিকার চর ডাকাতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমকাল
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৫ | ০১:০৭
দেওয়ানগঞ্জে চর ডাকাতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনঃস্থাপন নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। স্কুলটির কিছু অংশ চলতি বর্ষার শুরুতে নদীতে বিলীন হয়েছে। স্কুলটি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠাতারা ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ নদীভাঙনের অজুহাত দিয়ে সেই জমিতে স্কুল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কর্তৃপক্ষ চর ডাকাতিয়া থেকে দূরবর্তী চর ফারাজীপাড়া গ্রামে জমি নির্বাচন করেছে। এতে চর ডাকাতিয়া গ্রামবাসীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
চর ডাকাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠা করেন চর ডাকাতিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান। প্রতিষ্ঠার সময়ে নাম দেওয়া হয় চর ডাকাতিয়াপাড়া স্বল্পব্যয়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরবর্তী সময়ে এটি চর ডাকাতিয়াপাড়া কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১১ সালে বিদ্যালয়টি রেজিস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় এবং সরকারি দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। ২০১৩ সালে সরকারি হয় বিদ্যালয়টি। চলতি বর্ষার শুরুতে বিদ্যালয়ের কিছু অংশ যমুনায় বিলীন হলে কর্তৃপক্ষ নিলামে বিক্রি করে স্কুলভবন। স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে ওই স্থানে নদীভাঙন থেমে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টি চিকাজানী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। এখানে ভোটকেন্দ্র রয়েছে। নদীভাঙনের পর যমুনা নদী থেকে অন্তত ৬০০ মিটার দূরত্বে আবারও জমি দিতে সম্মত হন প্রতিষ্ঠাতারা। স্থানটি চর ডাকাতিয়াপাড়া ও চর ফারাজীপাড়া গ্রামের মধ্যবর্তী। ওই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে চর ডাকাতিয়াপাড়া ও চর ফারাজীপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা। সেখানে স্কুল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করলে দুই গ্রামের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। ইউসুফ আলী নামে একজন বলেন, ‘আমরা চর ডাকাতিয়াবাসী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছি। এর সঙ্গে আমাদের অর্থ, শ্রম ও মেধা মিশে রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সড়কের সঙ্গে দুই গ্রামের মাঝখানে জমি দিয়েছেন। আমরা চাই বিদ্যালয়টি চর ডাকাতিয়াপাড়া ও চর ফারাজীপাড়া গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে পুনঃস্থাপিত হোক।’
এছাড়া বিদ্যালয়টি চিকাজানী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রও। স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টি চর ডাকাতিয়া থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে চর ফারাজীপাড়া নামক গ্রামে স্থানান্তরের কথা ভাবছে। সেখানে একচালা টিনের ছাপড়া তোলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য।
জানা গেছে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আরও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয়টি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রও। এ অবস্থায় ৫ নম্বর ওয়ার্ডে চর ডাকাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনঃস্থাপন করা হলে একই ওয়ার্ডে দুটি ভোটকেন্দ্র হবে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো ভোটকেন্দ্র থাকবে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
জসিম উদ্দিন নামে একজন জানান, চর ডাকাতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চিকাজানী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র। বিদ্যালয়টি ৫ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভোটদানে সাধারণ ভোটারদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
সরেজমিন দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য চর ফারাজীপাড়া গ্রামের ভেতরে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। মূল সড়ক থেকে অনেকটা ভেতরে। ছাপড়া ঘরে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়। শিক্ষক পাওয়া যায় চারজন। চর ডাকাতিয়া গ্রামের কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে আসেনি।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ছাপড়া ঘরে পাঠদানের পরিবেশ নেই। তারা দ্রুত স্কুলঘর পুনঃস্থাপন চান। স্থান নিয়ে তাদের কোনো মতামত কিংবা ভিন্নমত নেই।
চর ডাকাতিয়া গ্রামের কয়েকজন অভিভাবক ওই বিদ্যালয়ের জন্য প্রতিষ্ঠাতাদের দেওয়া জমি দেখান। মূল সড়কের সঙ্গে জমিটি। তারা জানান, চর ফারাজীপাড়া বিদ্যালয়টির ক্যাচম্যান্ট এরিয়ার একপ্রান্তে। সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ও ভোটার দুর্ভোগে পড়বেন। তাদের দেওয়া স্থানটি দুই গ্রামের প্রায় মধ্যবর্তী, যা নদী থেকে অন্তত ৬০০ মিটার দূরে।
জমিদাতা হাসনা হেনার ভাষ্য, তাঁর স্বামী ওই বিদ্যালয়ের জমিদাতা। তাঁর অবর্তমানে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নদী থেকে বিধি অনুযায়ী দূরে সড়কের সঙ্গে ওই স্কুলের জন্য জমি বরাদ্দ দিতে চান; যাতে দুই গ্রামের কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে অসুবিধা না হয়।
ইউএনও আতাউর রহমান জানান, চর ডাকাতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চলতি বছর নদীতে বিলীন হয়। সে কারণে চিকাজানী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্যালয়টি স্থাপনের চিন্তা করা হয়। এই ভাবনা থেকে শিক্ষক ও অভিভাবক সমাবেশ করা হয়েছে।
- বিষয় :
- দ্বন্দ্ব
