ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভিসেরা প্রতিবেদনের তথ্য

শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় সাজিদকে

শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় সাজিদকে
×

সাজিদ আব্দুল্লাহ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৫ | ২১:০৯

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র সাজিদ আব্দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার সাজিদের মৃত্যুর ভিসেরা প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি মহাখালীর রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান নজরুল ইসলাম ও খুলনা বিভাগীয় পরীক্ষক জনি কুমার ঘোষ রিপোর্টে স্বাক্ষর করেন।

ভিসেরা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাজিদের শরীরে কোনো বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। শ্বাসরোধের (asphyxia) ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয় পোস্টমর্টেমের আনুমানিক ৩০ ঘণ্টা আগে মৃত্যু হয়েছে যা ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও উঠে এসেছিল। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের এক মেডিকেল অফিসার বলেন, ভিসেরা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দম বন্ধ হয়ে বা শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ভিসেরা রিপোর্টে যেটা এসেছে, সেটা থেকে বোঝা যাচ্ছে এটা হত্যাকাণ্ড।

গত ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে সাজিদের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সাজিদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ১৮ জুলাই দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিটি।

এদিকে রোববার দুপুরে ইবির ‘ছাত্র-শিক্ষক সংহতি দিবস’ উপলক্ষে জুলাই শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার শহীদ সবুজের স্ত্রী রেশমা খাতুন, শহীদ রাকিবুল ইসলামের বাবা আবু বকর সিদ্দিক, শহীদ ইউসুফের মেয়ে সীমা খাতুন ও শহীদ আলমগীর হোসেনের ভাই মোহাম্মদ আজাদ। 

অনুষ্ঠানে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জুলাই চেতনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। জনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ আর পেছনে ফিরে যাবে না।

অনুষ্ঠান শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার ও আহত হওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও নীরবতা পালন করা হয়।

আরও পড়ুন

×