ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বৃষ্টিতে রাস্তার বেহাল দশা, দুর্ভোগ চরমে

বৃষ্টিতে রাস্তার বেহাল দশা, দুর্ভোগ চরমে
×

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ছবিটি মাদার বখ্শ হল ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলের মাঝামাঝি রাস্তা থেকে তোলা। 

অর্পণ ধর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৫ | ১৯:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর দুরবস্থা এখন চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাব, নির্মাণাধীন ভবনের ভারী যানবাহনের চলাচল এবং এবারের অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তাগুলো কাদাপানি ও গর্তে ভরে গেছে। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী এবং স্থানীয় পথচারীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হাঁটাচলাতেও চরম ঝুঁকি ও অসুবিধা সহ্য করতে হচ্ছে সকলকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেরামতের আশ্বাস দেওয়া হলেও, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন যে, প্রশাসনের উদাসীনতা এবং বিলম্বিত কাজের কারণে তাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। 

রাজশাহী অঞ্চলে এ বছর তুলনামূলকভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে। ফলে, রাস্তাগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনোরকমে চলাচল সম্ভব হলেও, বর্ষায় রাস্তায় কাদা জমে থাকায় পরিস্থিতি অসহ্য হয়ে ওঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশে রাস্তাগুলো ভেঙে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিনোদপুর থেকে সোহরাওয়ার্দী হলের পুকুরপাড় পর্যন্ত এবং শামসুজ্জোহা হল থেকে বধ্যভূমি পর্যন্ত রাস্তাগুলো যাতায়াতের জন্য প্রায় অনুপযোগী হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় এসব রাস্তায় কর্দমাক্ত হয়ে থাকে। 

মাদার বখ্শ হলের সামনে থেকে স্টেডিয়াম গেট পর্যন্ত রাস্তাটির ইটের সলিং ভেঙে যাওয়ায় রিকশাচালকরা এই রাস্তায় চলাচল করতে চান না। এজন্য বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শামসুজ্জোহা হল, সোহরাওয়ার্দী হল এবং মাদার বখ্শ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী, মেহেরচণ্ডী এলাকার ছাত্রাবাসের বাসিন্দা এবং স্থানীয়রাও যাতায়াত করেন। 

এছাড়া, মাদার বখ্শ হলের সামনে থেকে হবিবুর রহমান হল পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণাধীন ভবনের ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের পেছন থেকে চারুকলা গেট পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তাটির পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রোকেয়া হলের উত্তর পাশের রাস্তা ভেঙে পড়েছে। 

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তাগুলোর এই দুর্দশা চলছে, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভবন নির্মাণকাজের অজুহাতে রাস্তা মেরামত বিলম্বিত হচ্ছে, কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানো সত্ত্বেও কাজ শেষ হচ্ছে না। এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী খোকন উদ্দিন সমকালকে বলেন, প্রতিদিন হল থেকে বের হলেই এই দুর্ভোগে পড়তে হয়। হেঁটে গেলেও ভোগান্তি, রিকশায় গেলেও ভোগান্তি। সামন্য বৃষ্টিতে এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পরিবেশ তো থাকেই না এবং রিকশাচালককেও যাওয়ার জন্য রাজি করানো যায় না। শিক্ষকদের আবাসিক এলাকার রাস্তার এমন অবস্থা হলে, রাতারাতি ঠিক হয়ে যেত। কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীদের বেলায় তারা সবসময় উদাসীন। আমাদের অসুবিধার দিকে প্রশাসনের কোনো নজর নেই।

শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পুশরাম চন্দ্র বলেন, হল থেকে বের হয়ে বিভাগে যেতে হলে কাঁদা মাড়িয়ে যেতে হয়। গ্রামে তুমুল বৃষ্টির সময় প্যান্ট কাঁদা থেকে বাঁচাতে যেমন টেনে উপরে তুলে হাঁটতে হতো, ক্যাম্পাসে হল থেকে বের হয়ে নিয়মিত এভাবেই হাঁটতে হয়। আর যদি বিনোদপুর বাজারের দিকে যাওয়া লাগে, তাহলে অবস্থা আরো খারাপ। ঐ রাস্তা দিয়ে রিকশাও যেতে চায় না। আর গেলেও দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হয়। প্রশাসন বলছে, নির্মাণাধীন ভবনের কাজের জন্য রাস্তা ঠিক করা হচ্ছে না। কিন্তু তাদের যদি স্বদিচ্ছা থাকতো, তাহলে অন্তত হাঁটাচলা করায় মতো ফুটপাত তৈরি করে দিতে পারতো। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিনটি ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে, যা রাস্তা মেরামতের কাজকে বাধাগ্রস্ত করেছে। কয়েকটি রাস্তার টেন্ডার ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। কিছু রাস্তায় পিচ ঢালাই করা হবে, কিছু রাস্তায় আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এখন বৃষ্টির জন্য কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি কমলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে কাজ শুরু করলে, এই রাস্তা একদম চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন সমকালকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কাজই খুব দ্রুত শুরু হয় না। অনেকগুলো ধাপ পার হয়ে কাজগুলো শুরু হতে হয়। এ কারণে কিছুটা সময় লাগছে। এই অর্থবছরে প্রতিটি রাস্তা সংস্কারের জন্য আলাদা আলাদা বাজেট পাস হয়েছে। ফাইনান্স কমিটিতে অনুমোদনও হয়ে গিয়েছে। কোন কোন রাস্তার টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। হয়তো বর্ষার কারণে এখনো কাজ শুরু করতে পারছে না। যেসব রাস্তায় বেশি গর্ত হয়েছে সেখানে পাথর দিয়ে সমান করে দিতে বলা হয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলেই কাজ শুরু হবে। এখন কাজ করলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন

×